প্রিয়াঙ্কা কোয়ারেন্টাইন সময়কে আশীর্বাদ ভাবছেন

18

বিনোদন ডেস্ক: চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে যখন গোটা বিশ্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি,তখন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ৩৮বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সময়টা ইতিবাচক করার জন্য সব শক্তি কাজে লাগাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন তাদেরকে সামনে আনার জন্য তিনি বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

প্রিয়াঙ্কা ২০১৮ সালে মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা নিক জোনাসকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি নিকের পরিবারে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লসঅ্যাঞ্জেলসে বসবাস করছেন। গত মাসে নিকের ভাই, জো জোনাস এবং তার স্ত্রী সোফি টার্নারের প্রথম সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়।এখন তাকে ঘিরেই গোটা পরিবারের ব্যস্ততা বেড়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকান গণমাধ্যম ইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা কোয়ারেন্টাইনে কাটানো সময় নিয়ে নানা কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনাকালীন এই সময় বিশ্বের অন্য অনেক লোকের তুলনায় ভালো থাকতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি বলেন,আমরা সুস্থ আছি,আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা সুস্থ আছে। সৃজনশীল কাজ করার সময় পাচ্ছি। সব মিলিয়ে বলতে হয় এই সময়টা আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। কোভিড -১৯ মোকাবিলায় প্রিয়াঙ্কা ত্রাণ তৎপরতাসহ, নানা প্রচারণামূলক কাজ করছেন।

সাবেক কোয়ান্টিকো তারকা প্রিয়াঙ্কা এই বছরের শুরুর দিকে ‘টুগেটদার রাইস ইউম্যান ক্যাম্পেইন’ সংগঠনটি চালু করার জন্য ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইজার হিসাবে যোগ দেন।পাঁচ সপ্তাহের এই সিরিজটি দেশজুড়ে ২০ জন নারী চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটি নেতাদের সমন্বয়ে সংগঠিত হয়েছিল। সংগঠনের প্রত্যেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই অন্যান্যের সেবা দিতেন। সেই সঙ্গে তাদের প্রচেষ্টার জন্য অর্থ অনুদানও দিতেন।

সংগঠনটিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন,পৃথিবী পরিবর্তনের আগে আমরা একটি প্রচারণা চালাতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রচারণা চালানোর মতো অবস্থা ছিল না।

প্রিয়াঙ্কা আরো বলেন, এখন কোন ধরনের প্রচারণা চালানোর সময় নয়। তবে খুব শীঘ্রই কীভাবে কাজে ফিরিয়ে দিতে পারি তা নিয়ে আমাদের কথাবার্তা চলছে। তিনি বলেন, এটা ভেবে আনন্দ লাগছে যে, সংকটময় এই মুহূর্তে সত্যিকার অর্থে যেসব নারীর অর্থ প্রয়োজন অনুদানের টাকা তাদের কাজে লেগেছে।

প্রিয়াঙ্কার মতে, করোনাকালীন এই সময় প্রত্যেকেরই অন্যান্যের সহযোগিতায় কিছু করা উচিত। তিনি বলেন, মুল কথা হচ্ছে, পৃথিবীর সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। পৃথিবীকে বাঁচাতে এখন কেউ যদি ক্ষুদ্র আকারেও কিছু করেন তাহলে সেটার ফলও অনেক দূর যাবে।

প্রিয়াঙ্কার মতে, এই বছরটি অবশ্যই বিশ্ব মনে রাখবে। তিনি বলেন, এখন থেকে ১০ বছর পেছনে তাকালে ২০২০ সাল যে মানবতার শিক্ষা দিয়েছে তা ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হবে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, প্রায় ছয় মাস আমরা ঘরে ছিলাম। পেছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে বিশ্ব কতটা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ মহামারি বিশ্বের কত লোককে কীভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই সঙ্গে বিশ্ব করোনার চেয়েও কীভাবে দারিদ্র্য, ক্ষুধা মোকাবিলা করেছে তা দেখা যাবে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, মানবতা একত্র হওয়ার এটাই সময়। ১০ বছর পর যখন আমরা পেছন ফিরে তাকাবো তখন আমরা বুঝতে পারবো সময়টা আমরা কীভাবে মোকাবিলা করেছি। তিনি আরো বলেন, মানব চেতনা কী করতে পারে তার প্রমাণ দেওয়ার সময় এখন। এজন্য বর্তমান সময়টা ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।

প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, মহামারিকালীন এই সময় পার হবার অন্যতম চাবিকাঠি হলো কিছুটা হাসি, মজা করা। প্রিয়জনদের সাথে বাড়িতে আনন্দ করা। যা নিজের জীবনে তিনি কাজে লাগিয়েছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.


Notice: Undefined index: name in /var/www/wp-content/plugins/propellerads-official/includes/class-propeller-ads-anti-adblock.php on line 169