‘খালেদা জিয়ার খালাস বা শাস্তিতে আওয়ামী লীগের লাভ-ক্ষতি নেই’

0 93

জয়পুরহাট ২-আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। সমসাময়িক রাজনীতির নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিনোদন সারাবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কথা বলেছেন সরকারের সফলতা ও পরিকল্পনা নিয়েও। পাঠকের জন্য আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

বিনোদন সারাবেলা : ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিন ধার্য আছে। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: আপনি জানেন, বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা। সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ কি রায় দেবেন সেটি মামলার মেরিটের ওপর নির্ভর করছে। আর এই মামলাটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পছন্দ করে জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে সেনা প্রধান বানিয়েছিলেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় মামলাটি দুদক দায়ের করেছে। তদন্ত কার্যও সেই সময়ে করা হয়েছে।

বিনোদন সারাবেলা : রায়ে খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে আওয়ামী লীগের লাভ বা ক্ষতি কী?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই মামলায় সসম্মানে খালাস পেলে অথবা শাস্তি পেলে আওয়ামী লীগের কোনও লাভ-ক্ষতি নেই। এই মামলার মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ধাপ অতিক্রম করবে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পাবলিক মানি (জনগণের টাকা) তছরুপ করার ক্ষেত্রে ভীত হবেন। ক্ষমতায় থাকলে পাবলিক মানিকে নিজের বা বাপ দাদার মানি হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা কমবে। রায় যাই হোক পাবলিক মানি তছরুপ করলে অন্তত আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এই ভয়টি ক্ষমতাবানদের মাঝে সঞ্চারিত হওয়া প্রয়োজন।

বিনোদন সারাবেলা : বিএনপি ব্যাপক সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে, আওয়ামী লীগ এতে হতাশ। বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে আপনি কী বলবেন?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: বিএনপির সম্মানিত নেতারা এখন মিডিয়ার বাঘ। তাদের বচন আপনাদের নিকট অনেক মূল্যবান। আমার নিকট তেমন গুরুত্ব বহন করে না। আওয়ামী লীগ সেনানিবাস বা প্রাসাদ থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল নয়। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, জনগণেই আস্থা। এখন ধর্মের সুড়সুড়ি বা অলীক ভারত বিরোধিতা করে ভোট পাওয়ার দিন শেষ। সুতরাং দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করবে।

বিনোদন সারাবেলা : আওয়ামী লীগ গত দুই আমলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এমন অভিযোগ আছে। আপনার বক্তব্য জানতে চাই।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: যারা ঢাকা মহানগরে শীতাতপ বাড়িতে থাকেন, শীতাতপ গাড়িতে চড়েন, শীতাতপ অফিসে অফিস করেন এবং শীতাতপ কনভেনশন সেন্টার বা টিভি স্টুডিওতে গিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেন এটি তাদের অভিযোগ। গণমানুষের নয়। বিশ্বসেরা প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়ন মাতা শেখ হাসিনার ভ্যানিটি ব্যাগে সর্বদা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার থাকে। তার নেতৃত্বে সরকার দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সকল নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করে চলেছে।

বিনোদন সারাবেলা : ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ কোন অবস্থানে থাকবে?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। রায় কেন্দ্রিক কোনও অরাজকতা, নাশকতা করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

বিনোদন সারাবেলা : বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের কোন্দলেই আওয়ামী লীগের পরাজয় ডেকে আনবে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: পৃথিবীর যে প্রান্তেই তিন জন বাঙালি আছেন, সেখানেই একাধিক গ্রুপের অস্তিত্ব আছে। আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলে কোন্দল থাকবে না তা আশা করা এক ধরনের আঁতলামি। কোন্দল থাকবেই। বহুমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে, দ্বন্দ্ব থাকবে- এটিই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দেখুন, দলের কর্মীরা দলের কর্মচারী নয়। তারা কর্মী। তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে, পছন্দ, অপছন্দ প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে। এ কারণে কোন্দল সৃষ্টি হতেই পারে। কোন্দল প্রশমন করে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচন মোকাবিলা করবে। দলের প্রতিটি নেতা কর্মী মহান সভানেত্রীর প্রতি আস্থাশীল। তিনি মনোনয়ন ঘোষণার পর সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে বিজয় নিশ্চিত করবে।

বিনোদন সারাবেলা : দেশের কোথাও কোন্দলের সমাধান হচ্ছে না, আওয়ামী লীগ কী ইচ্ছে করেই এই কোন্দল জিইয়ে রাখছে?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ইচ্ছে করে কেউ কোন্দল জিইয়ে রাখবে এটি বাস্তবসম্মত মতামত নয়। সামনে নির্বাচন। শত ফুল ফুটতে শুরু করেছে। অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। ফলে সমস্যা এই মুহূর্তে সমাধান হবে এমনটি আমি বিশ্বাস করি না। মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত কিছু সমস্যা থাকবেই। আমরা চেষ্টা করছি ওয়ার্কিং রিলেশনটি যেন বজায় থাকে। সবাই মিলে কাজ করার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর যেন সবাই একযোগে ভোট যুদ্ধে লড়াই করতে পারি।

বিনোদন সারাবেলা : সম্ভবত পদ্মা সেতু নির্বাচনের আগে হচ্ছে না। যদি তাই হয়, আওয়ামী লীগ কী নিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইবে?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। আবহাওয়া বৈরী হলে প্রমত্তা পদ্মার বুকে কাজ চলমান রাখা ও ওয়ার্ক প্ল্যান ঠিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে। পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ। আমাদের নির্বাচনের জন্য তড়িঘড়ি করে যেনতেনভাবে কাজ করার মানসিকতা আওয়ামী লীগ পোষণ করে না । পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। পদ্মা সেতু এখন বাঙালির স্বকীয়তা, সক্ষমতা শৌর্য-বির্যের প্রতীক। নিজের টাকার নিজের সম্পদ।

শুধু পদ্মা সেতু কেন? জননেত্রী শেখ হাসিনার অজস্র উন্নয়ন ও কল্যাণ জনগণ স্বচক্ষে অবলোকন করছেন, সুবিধা ভোগ করছেন এবং নতুন নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, আওয়ামী লীগ সেই স্বপ্ন সম্ভব করে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস শেখ হাসিনায়। এই আস্থা ও বিশ্বাসই আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটের বিজয় আনবে।

বিনোদন সারাবেলা : অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন: ধন্যবাদ আপনাকে এবং বিনোদন সারাবেলাকেও।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.