হানিমুন শেষই হচ্ছে না এ দম্পতির…

0 61

বিয়ে করার পর এক দম্পতি বের হয়েছিলেন হানিমুনে। ফিলিপাইনের দক্ষিণ-পশ্চিমের পালাওয়ান দ্বীপে তারা ভ্রমণে যান। সেখানকার এল নিদো শহরের নিকটেই রয়েছে সমুদ্র উপকূল। আর সেখানেই রয়েছে বার্ডহাউজ নামে একটি রিসোর্ট।

বার্ডহাউজ রেস্টুরেন্টটি মার্ক অ্যান্টোনি ও ক্যামেলি ডিমসন ভিলাফ্লোর দম্পতির তৈরি।  এ দম্পতি ১৬ মাস ধরে সারা বিশ্ব ঘুরে হানিমুন করেছেন। এরপর তা তাদের ব্লগেও সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

২০০৯ সালে এ দম্পতি প্রথম একে অন্যের সঙ্গে দেখা করেন। এর প্রায় দুই বছর পর তারা বিয়ে করে একত্রে চীনের সাংহাইতে থাকতে শুরু করেন। এ সময়েই তারা ৪০ দিনের জন্য কম্বোডিয়া ও পশ্চিম চীনে হানিমুনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।

মার্ক মার্কিন এবং ক্যামেলি ফিলিপাইনের নাগরিক। ফলে বিশ্বের নানা দেশের ভিসা পাওয়াটাও কঠিন ছিল না তাদের জন্য।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। তারা হানিমুনে গিয়ে শুধু একে অপরের দিকেই মনোযোগী ছিলেন না, আশপাশের দারুণ সব বিষয়ের দিকেও খেয়াল রেখেছিলেন।

এরপর হানিমুনটিকে তারা আরও বড় করার সিদ্ধান্ত নেন। ভ্রমণে গিয়ে তারা পার্ট টাইম কাজ করে উপার্জনও শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে কাজ করে বেশ কিছু টাকাও জমা হতে থাকে। এভাবে ৩০ হাজার ডলার জমিয়ে তারা বছরব্যাপী হানিমুনের পরিকল্পনাও করে ফেলেন।

ব্যাপকপ্যাক নিয়ে তারা যে হানিমুন শুরু করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত ১৭ মাসে ঠেকে। এতদিন ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্র, কেনিয়া, তানজানিয়া, গুয়াতেমালা, এল স্যালবেদর, নিকারাগুয়া, কোস্টা রিকা, পানামা, কম্বোডিয়া, ব্রাজিল ও ইকুয়েডরে হানিমুন করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে তারা যেসব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন, তা তুলে ধরেন অনলাইনে। ভ্রমণের সময়েই তারা সুযোগ-সুবিধামতো বিভিন্ন কাজ করেন। এসব কাজের মধ্যে ছিল হোস্টেলের চেক-ইন সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, ডিজাইন কনসালটেন্সি, ব্লগ রিভিউ এমনকি হোটেলের ফ্লোর মোছাও।

১৬ মাস ভ্রমণের শেষে তারা এল নিদোতে আসেন। হানিমুনের জন্য দ্বীপটি অসাধারণ। তাই এ দম্পতি সেখানকার দারুণ সুন্দর সাগর, পাহাড় ও হ্রদের টানে সেখানে আরো কিছুদিন কিভাবে থাকা যায়, তার উপায় খুঁজতে থাকেন।

এলাকাটিতে তেমন পর্যটক আসে না। কিন্তু ভালো ব্যবস্থা করলে সেটি পর্যটকদের জন্য দারুণ জায়গা হবে। এ চিন্তায় পর্যটকদের জন্য সেখানে ‘দ্য নেস্ট’ নামে রিসোর্ট তৈরি করেন তারা। এজন্য অল্প কিছু জায়গাও পেয়ে যান তারা।

ছয় মাস কাজ শেষ করে তারা সে রিসোর্টের বার্ডহাউস ও তিনটি তাবু চালু করেন। সেখানকার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়।

হানিমুন করতে গিয়েই এ অসাধারণ স্থানটির সন্ধান পান দম্পতি। এরপর দীর্ঘ হানিমুন শেষে নিজেরাই বসবাস শুরু করলেন এমন দারুণ এক স্থানে। সব মিলিয়ে যেন হানিমুন শেষই হচ্ছে না এ দম্পতির।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.