গণভবনে নাতি-নাতনিদের সাথে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

0 57

প্রধানমন্ত্রী পদটিকে ঘিরে কিংবা তার বক্তব্য নিয়ে গলি থেকে রাজপথ এবং রাজধানী থেকে তৃণমূল সর্বত্রই আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদটির কথা মনে আসলেই প্রথমে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা তথা বাধা, অতঃপর নানা স্বপ্নের কথা ভেসে ওঠে।

কিন্তু শক্তিশালী সেই চেয়ারের অধীকারী ব্যক্তির সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন জনসাধারণকে কিছুটা কৌতূহলী করে তোলে। সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবপযাপনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যাপন মিলিয়ে ‍কিছুটা আনন্দ পায় হয়তো। সম্ভবত এসব কারণেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নানা সময়ে প্রকাশিত কিছু ছবি, যেখানে তিনি হয়তো একজন সাধারণ মা, ছেলের জন্য রাঁধছেন; সুবোধ শিক্ষার্থী, শিক্ষকের জন্য লাল গালিচা ছেড়ে দিচ্ছেন; ছবিগুলো জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি অভিনন্দিত হন। এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার ছবি আছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর।

সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে নাতি-নাতনিদের সাথে খেলার দৃশ্য নিয়ে যারপরনাই আলোচনা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তেমনি ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন শেষে মেলা পরিদর্শনের সময় তার শিক্ষক ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্য লাল গালিচা ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্যটি আরও বেশি দৃষ্টি কেড়েছে।

কয়েক বছর আগে সন্তানের জন্য রান্নার দৃশ্য, কিছুদিন আগে গণভবনের সহকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রান্নার দৃশ্যও ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

গোপালগঞ্জে পরিবার পরিজনদের নিয়ে ভ্যানে চড়ে ভ্রমণের দৃশ্য। এর কিছুদিন পর কিশোরগঞ্জে রিকশায় ভ্রমণের দৃশ্য আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে।


শিক্ষক ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্য লাল গালিচা ছেড়ে দিলান প্রধানমন্ত্রী। ফাইল ছবি

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের একটু পেছনে তাকালে দেখা যায়, এইরকম দৃশ্যের সূচনা তিনি করেছিলেন আশির দশকের শেষ দিকে। তখন তিনি শুধুই আওয়ামী লীগের সভাপতি। একদিন জাতীয় কবিতা পরিষদের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ পটুয়া কামরুল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অবস্থা দেখে তিনি তার গাড়িটি দিয়েছিলেন খ্যাতিমান এই শিল্পীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। যদিও ওই গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কামরুল হাসান মারা যান।

এরপর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গণআদালতে যখন জাহানারা ইমাম এবং সুফিয়া কামাল বক্তব্য দিতেন সেখানে শেখ হাসিনাকে মাইক্রোফোন ধরে রাখতে দেখা যায়। এরপর থেকে জীবনের নানা বাঁকে তিনি এই সাধারণ, সাবলিল দৃশ্য রচনা অব্যাহত রেখেছেন। তবে কখনো কখনো এই সবকিছুকে রাজনীতিরই অংশ বলে থাকেন অনেকে।

তেমনি আজকের এই ছবিকেও কেউ কেউ রাজনীতির অংশ বলেছেন। তবে স্বাগত জানানোর সংখ্যাই হয়তো বেশি হবে। কারণ, এদেশের মানুষ বিনয়, স্বাভাবিকতাকেই সুন্দর বলে জানে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.