যাকে সাহায্য করেছিলেন, দুঃসময়ে তারই সাহায্য পেলেন না উর্মিলা

0 ৩০

শারীরিকভাবে ভালো নেই ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ তারকা উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। গত ৯ দিনে কিডনিতে পাথরজনিত সমস্যায় পরপর দুবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাকে। অস্ত্রোপচার করে পাথর অপসারণের পর কিডনিতে নল লাগিয়ে গতকাল ২৩ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয় এ অভিনেত্রীকে। কিডনির নল খোলা হবে আরও দেড়মাস পর। সিএমএইচ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক শহীদ তাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। কিন্তু সহ-অভিনয়শিল্পী বিন্দু পরিমাণ ছাড় না দেওয়ায় আজ থেকেই শুটিংয়ে নামতে হয়েছে এ অভিনেত্রীকে।

আইসিইউ থেকে সদ্য বের হওয়া উর্মিলা বলেন, ‘উনি (সহ অভিনয় শিল্পী) যদি দুইটি ঘণ্টাও কম্প্রোমাইজ করতেন, তাহলে হয়তো আমি একটু আরাম পেতাম।’ তবে ওই অভিনয় শিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি। শুধু বলেছেন, ‘এই আর্টিস্টকেই আমি তার এক ধরনের অসুস্থতার সময় নিজের শিডিউল জটিলতাকালীন আমি আমার নিজের একটা শিডিউল বাদ দিয়ে তার শিডিউল মিলিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ যখন আমার এ রকম অসুস্থতা, তিনি সেই বিষয়গুলো সরাসরি এড়িয়ে গিয়েছেন।’

গত ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং বাড়িতে সৈয়দ শাকিল পরিচালিত ‘সোনার শেকল’ নামের নাটকের শুটিং চলাকালীন আকস্মিকভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়েন উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। তখন তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। কথা ছিল ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার শুটিংয়ে যোগ দেবেন এ নাট্য অভিনেত্রী। কিন্তু সেদিন সকালেই আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রাজধানীর সিএমএইচে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করা হয় তার কিডনিতে।

উর্মিলা বলেন, ‘আমার যেটা সমস্যা ছিল, সেটা হচ্ছে আমার পাথরটা খুবই একটা ক্রিটিকাল লাইনে ছিল। এ কারণে সার্জারিতে এত সমস্যা হয়েছে। অনেক সময় তো শুধু লেজার করেও পাথর অপসারণ করা যায়। যেহেতু আমার ইউরিটেরাল লাইন ও কিডনির মাঝামাঝি জায়গায় পাথর ছিল, এ জন্য এত ভোগান্তি হয়েছে।’

অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। ছবি: সংগৃহীত

কিডনির সমস্যা কি ছোটবেলা থেকেই ছিল নাকি এটি একটি আকস্মিক ঘটনা, জানতে চাইলে অভিনেত্রী উর্মিলা বলেন, ‘না, ছোটবেলা থেকে ছিল না। হুট করেই এই সেটেই আমার ব্যথা উঠেছিল কিডনির। আর এটা যে কোনো সময় যে কারো উঠতে পারে। যেহেতু আমাদের রেগুলার লাইফে পানি কম খাওয়া হয়, আউট ডোরে থাকি, কাজ করি, নিজের প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখতে পারি না, তাই এটা যে কোনো সময় যে কারো হয়ে যেতে পারে।’

ডাক্তার রেস্ট নিতে বললেও রেস্ট নেওয়ার উপায় নেই উর্মিলার। ‘আমার লম্বা সময় রেস্ট প্রয়োজন। কিন্তু শিডিউলের কারণে আজ আমাকে বাধ্য হয়ে শুটিংয়ে আসতে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আজ আমাকে একই দিনে দুটি শুটিং করতে হচ্ছে’-বললেন শ্রাবন্তী কর।

তিনি আরও বলেন,‘সকাল ৭ টার সময় ডিরেক্টর এসেছেন আমার বাসায়। পহেলা বৈশাখের নাটকের শুটিংয়ের জন্য। কারণ আমার যিনি কোআর্টিস্ট তাকে অনেক রিকোয়েস্ট করার পরও তিনি সেটে আর্লি আসতে পারবেন না, তিনি অসম্মতি জানিয়েছেন। তার কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে এই ব্লাড প্রেসার এবং দুটি সার্জারির পরও এত কষ্ট করে কাজে আসতে হয়েছে।’

অসুস্ত শরীর নিয়ে আজ ঠিক কোথায় কোথায় না গেলেই নয়, এ প্রশ্নের উত্তরে উর্মিলা বলেন, ‘এখন আমি উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে যাচ্ছি। ওখানে প্রথমে শুটিং করব। তার পর আমি নির্মাতা শাকিল ভাইয়ের সেটে ঢুকব। তার ডেটটা নেওয়া ছিল এবং শাকিল ভাইয়ের অনএয়ারের ফুটেজ নেই। এ কারণে উনার কাজটি আমাকে করতে হচ্ছে। সেই সেটে কাজ শেষ করে আবার আমাকে এই সেটে ফিরে আসতে হবে।’

তাহলে তো আজকের পর আপনি প্রয়োজনীয় বিশ্রামে চলে যেতে পারবেন? উত্তরে তিনি বলেন ‘এর পর আমার আর রেস্টে যাওয়ার কোনো অপশনই নেই। কারণ এরপর আমার ঈদের নাটকগুলোতে ডেট দেওয়া। আমাকে এ অসুস্থতা নিয়েই কাজগুলো করতে হবে। অন্য দিনের কাজগুলো হয়তো ম্যানেজ করতে পারতাম কিন্তু গতকালই আইসিইউ থেকে এসে আজ সকালে এভাবে কাজ করার বিষয়টা খুবই কষ্ট দিয়েছে আমাকে।

আমার মনে পড়ে আমি জীবনে যে কোনো আর্টিস্ট ঝামেলায় পড়লে তাদের সাপোর্ট দিয়েছি। ঠিক আছে; কোনো ব্যাপার না। যেহেতু আমি কমিটমেন্ট করেছি, সেহেতু এটা করা এখন আমার দায়িত্ব।’

শুটিংয়ের ডেট পেছানোর প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি যদি বুঝতাম যে এই ডেটটায় আমি ফেঁসে যাব, আমি আরেক দিন ডেটটা করে মিলিয়ে দিতে পারব, আমি নিজে থেকেই তখন এটা বলতাম যে এটা বন্ধ থাকুক। আমার দুজন ডিরেক্টর শেষ তিনদিন ধরে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। কারণ আমার কোআর্টিস্টদেরও তো অনেক ব্যস্ততা। আমার ডেটের সঙ্গে তাদের ডেট মেলান সম্ভব না।

তা ছাড়াও আমি নিজে একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, একটা কাজ করি। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেই যদি শিডিউল দিয়ে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে তো অন্যদের উপর সেটার খারাপ প্রভাব পড়বে।’

অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালের ভর্তি থাকার দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ডিরেক্টরদের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রতিটা দিন, প্রতিটা রাতই হাসপাতালে আমার সাথে ছিলেন তারা। তবে এটা সত্য যে কোনো অভিনয় শিল্পীর কাছ থেকেই আমি কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক সাপোর্ট আমি পাইনি, হাতে গোনা দুই একজন ছাড়া।’

পরিপূর্ণ বিশ্রামে নেওয়ার পরামর্শ ছাড়াও বর্তমানে খাবার-দাবারে প্রচুর বিধি-নিষেধ আছে তার। ওষুধপত্রও আছে। সব কিছু মিলিয়েই চলতে হচ্ছে উর্মিলাকে। কিন্তু পেশাগত কারণে কাউকে কোনো সমস্যায় ফেলতে চান না তিনি। বললেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে আমি কাউকে কোনো সমস্যায় ফেলব না এবং আমি সব কিছু মেইনটেইন করেই ঠিকঠাক মতো কাজ করব।’

শরীরের এই অবস্থায় আবার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে যা ঘটে বা ঘটলেও যাতে তাকে সহায়তা করা যায় এজন্য সবসময় একজন সহকারী থাকছেন তার পাশে।

‘এখন থেকে হয়তো আমার মা থাকবেন আমার সঙ্গে সামনের শুটিংগুলোতে। আমি আসলে কাউকে বিরক্ত করতে চাই না। কারণ কি, সেটে একজন এক্সট্রা মানুষ আসা মানে তার আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা করা, আলাদা অ্যারেঞ্জমেন্ট, তার জন্য মেকআপ রুমে আলাদা একটা স্পেস, আলাদা মনোযোগ, আমি চাই না কাউকে বিব্রত করতে। কারো সমস্যার কারণ হতে চাই না। আমার প্রফেশনাল জায়গাতে তো চাই-ই না’ এই বলে শেষ করলেন অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.