স্মিথকে সরাতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের নির্দেশ!

0 58

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে বল টেম্পারিং কাণ্ডে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলো অস্ট্রেলিয়া সরকার। টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে স্টিভেন স্মিথকে সরাতে নির্দেশ দিয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস কমিশন (এএসসি)। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলও এমন কাণ্ডকে ‘হতাশাজনক ঘটনা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

শাস্তি কী হবে তা এখনো ঘোষণা হয়নি তবে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল যে বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে তা অনেকটাই স্পষ্ট। চলতি কেপটাউন টেস্টে ক্যামেরন ব্যানক্রফটের বল টেম্পারিং করেন যা ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গেছে। পরবর্তী সময়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা স্বীকার করলেও সমালোচনা থেকে বাঁচতে পারেননি। পাশপাশি কোচ ড্যারেন লেহম্যান ও অধিনায়ক স্মিথের দিকেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল।

এ প্রসঙ্গে এএসসির প্রধান জন উইলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘খেলাধুলার সব ক্ষেত্রেই এএসসি প্রতারণার নিন্দা জানায়। এএসসি দেশের সর্বক্ষেত্রের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সততা আশা করে।

বল টেম্পারিংয়ের অনুমতি দেওয়ায় স্টিভ স্মিথকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে নির্দেশ দিচ্ছে এএসসি। দলের অন্য সিনিয়র সদস্য, কোচিং স্টাফসহ যারাই এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের সরাতেও নির্দেশ দিচ্ছে এএসসি। ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’

বল টেম্পারিং করছেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী জেমস সাউদারল্যান্ডও বল টেম্পারিং বিষয়ে পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্তে প্রমাণিত হলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের শাস্তি ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া বোর্ড তাকে দীর্ঘ মেয়াদে নিষিদ্ধ করতে পারে।

এমন নিন্দিত ঘটনায় শুধু ক্রিকেট বোর্ডই নয় অস্ট্রেলিয়া সরকারও মাথা ঘামাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্মিথকে অধিনায়কত্ব থেকে দূরে রাখার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি সিএ। তবে চলতি টেস্ট শেষ হলে অধিনায়কত্ব থেকে স্মিথের সরে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত।

যদিও সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেছিলেন, ‘এটা আমি চিন্তা করি না, আমি এখনো মনে করি এই দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি যোগ্য। আজকের ঘটনাটি একটি বড় ভুল ছিল। সত্যি আমি বিব্রত।’

সিএর প্রধান নির্বাহি বলেন, ‘দিনটা খুব সুন্দর হতে পারতো অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য, এটা নিয়ে সমর্থকরা গর্ব করতে পারত। কিন্তু এটা একটা কালো দিন হয়ে রইল। কেপটাউনের মাঠের ঘটনা ক্রিকেটের কোনো গ্রামারের মধ্যেই পড়ে না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা বেশ হতাশার। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের জন্য এটা আরো বেশি হতাশার।’

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.