শ্রীদেবীর জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তিতে ‘আক্ষেপ’

0 ১১

‘মম’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন শ্রীদেবী। ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম তিনি এই পুরস্কার পেলেন। অবশ্য পুরস্কার হাতে নেওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করেননি অভিনেত্রী। পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের একটি হোটেলের বাথটাবের পানিতে ডুবে মারা যান তিনি।

জীবদ্দশায় শ্রীদেবী বহু পুরস্কার জিতলেও জাতীয় পুরস্কার হাতে পাওয়ার আক্ষেপটা যেন রয়েই গেল। এবার সেটা অর্জন করলেও হাতে নিতে পারলেন না বলিউডের এই সুপারস্টার। এ বিষয়ে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি আজ খুব আনন্দিত। তবে আক্ষেপ রয়েই গেল, কারণ সে আর এই পৃথিবীতে নেই। এটা তার প্রথম জাতীয় সম্মান। পুরনো স্মৃতি মনে পড়ছে।’

অবশ্য ৬৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রীদেবীর সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জনকে একটু ভিন্নভাবেই বর্ণনা করেছেন পরিচালক শেখর কাপুর। তিনি জাতীয় পুরস্কারের জুরি বোর্ডের প্রধানও। তিনি বলেন, মৃত্যুর পর শ্রীদেবীকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর ফলে প্রতিভাবান তরুণ অভিনেত্রীদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে শেখর কাপুর আরও বলেন, ‘শ্রীদেবী সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এই কারণে তিনি পুরস্কার পেয়েছেন, তা নয়। শ্রীদেবীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলে আমি অন্যান্য জুরিদের বলেছি, দয়া করে অন্য কাউকে নির্বাচিত করুন। কারণ মৃত কাউকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার দিলে সম্ভাবনাময় অভিনেত্রীদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। কিন্তু প্রত্যেকদিন নতুন করে ভোটাভুটি করেও আমরা বারবার শ্রীদেবীতে এসেই থামতাম। আমরা সবাই তার সঙ্গে আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ বলেই এমনটি হয়েছে।’

তবে শেখর কাপুরের এমন মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন ‘মম’ সিনেমার পরিচালক রবি উদয়াওয়ার। রবি বলেন, ‘শ্রীদেবী এই পুরস্কারের যোগ্য। আমি তার পুরস্কারপ্রাপ্তিতে অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ এটা আমাদের সবার কাজের স্বীকৃতিও। এই মুহূর্তে আমরা সবাই তার অভাব অনুভব করছি।’

গত বছরের ১৪ জুলাই মুক্তি পায় ‘মম’। সৎ মা-মেয়ের চিরাচরিত কোনো কাহিনি নয়, বরং বর্তমান সমাজে দাঁড়িয়ে মা-মেয়ের পবিত্র সম্পর্কের গল্পই বলেছে সিনেমাটি। সমাজ ও দেশের আইন ব্যবস্থার সঙ্গে মেয়ের জন্য লড়াই করা এক মায়ের ভূমিকায় শ্রীদেবীর অভিনয় দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচকদের মন কেড়ে নেয়।

শ্রীদেবী ছাড়াও এবারের ৬৫ তম ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যারা বিজয়ী হয়েছেন

দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার: বিনোদ খান্না

সেরা পরিচালক: ভয়ানকমের জন্য জয়রাজ (মালায়লাম)

বিশেষ পুরস্কার: মোরখায়া (মারাঠি); হ্যালো আরসি (উড়িষ্যা); টেক অফ (মালায়লাম); পঙ্কজ ত্রিপাঠি (নিউটন);

মালায়লাম অভিনেত্রী পার্বতী (টেক অফ)

সেরা আঞ্চলিক সিনেমা: লাদাখ

সেরা মণিপুরী সিনেমা: কাচ্চা নিম্বু

সেরা মালায়লাম সিনেমা: তন্ডিমুতালুম দৃকসাক্সিয়ুম

সেরা হিন্দি সিনেমা: নিউটন

সেরা বাংলা সিনেমা: ময়ূরাক্ষী

সেরা অসমীয়া সিনেমা: ইশু

সেরা তামিল সিনেমা: টু লেট

সেরা তেলেগু সিনেমা: গাজি

সেরা গুজরাতি সিনেমা: ডিএইচএইচ

সেরা অ্যাকশন: বাহুবলি ২

সেরা কোরিওগ্রাফি: টয়লেট এক প্রেম কথা (গণেশ আচার্য)

সেরা সিনেমা (সমালোচক): গিরিধর ঝা

সেরা স্পেশাল এফেক্ট: বাহুবলি ২

বিশেষ জুরি পুরস্কার: নগরকীর্তন (বাংলা)

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.