পুরুষের শরীরের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া নারীর পক্ষে সম্ভব না: প্রিয়তি

0 ২৪

মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। বিভিন্ন সময়ে তিনি তার চিন্তাধারার জন্য আলোচনায় এসেছেন। ইতোপূর্বে তিনি নানান কারণে সংবাদ হয়েছেন গণমাধ্যমে। সেক্স নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন তিনি।

১৩ মে, রবিবার নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নারী পুরুষের দেহ কাঠামো ও তাদের যৌন প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রিয়তি। লেখাটির শিরোনাম ‘বিয়ে মানে সেক্স করার লাইসেন্স নয়।’

তিনি জীববিজ্ঞানের ছাত্রী না হওয়ার পরও এ ধরনের একটি লেখা লিখেছেন বলে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করে নিয়েছেন লেখার শেষে।

প্রিয়তি লিখেছেন, ‘একটি বৈবাহিক সম্পর্কে বা যেকোনো সম্পর্কে সম্মান, বোঝাপড়া ও সহানুভূতিশীল থাকাটা জরুরি। প্রকৃতি নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন ভিন্নভাবে ডিজাইন করেছে, যা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এনালাইজ করতে নারাজ, জানতে নারাজ বা মানতে নারাজ অনেকেই। শিক্ষিত হয়েও মানবিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে যেন তাদের বাঁধা, বিষয়টি কিছুটা এমনভাবে দাঁড়িয়েছে। আমি ডাক্তারি ভাষায় কথা গুছিয়ে বলতে পারব না, কিন্তু সরাসরি কিছু কথা কোনো ভনিতা ছাড়াই বলতে চাই, যা কিছু মানুষের জানা প্রয়োজন।

বেশির ভাগ নারীদের সাধারণত শারীরিক সাইকেল চার সপ্তাহের অর্থাৎ ২৮ দিনের। পিরিয়ড যদি ১ তারিখ থেকে শুরু হয় এবং সাত দিন ম্যাক্সিমাম থাকে তাহলে ৮ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত সেই নারী ফারটাইল থাকে। কারণ তার শরীরে ডিম্বাণু আসে এবং ঐ ১২ দিন যৌনমিলনের জন্য প্রবল ইচ্ছা থাকবে। এর মধ্যে পুরুষের সাথে যৌনমিলনে যদি ঐ ডিম্বানু এক ফোঁটা বীর্যের সংস্পর্শ পায়, তখনই নারী প্রেগন্যান্ট হয়। আর যখন পুরুষের শুক্রাণু না পেয়ে ডিম্বাণুটি ভেঙে যায় তখন ওই ১২ দিন পর অর্থাৎ ২০ তারিখ থেকে নারীদের শরীরে হরমনাল পরিবর্তন আসে, তাতে নারীদের মেজাজ খিটখিটে থাকে, অতিরিক্ত ইমোশনাল থাকে, অনেকে শুধু শুধু ঝগড়া ও কান্নাও করে।

ওই ২০ তারিখ থেকে যৌনমিলনে নিরাপদ থাকলেও অর্থাৎ প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও, নারীদের কোনো ইচ্ছা, ডিজায়ার থাকে না যৌনমিলন করার। তারপর তো ২৮ তারিখের আশেপাশের তারিখ থেকে আবার পিরিয়ড শুরু। দিস ইজ হাউ উইমেন্স বডি ডিজাইন্ড।

এখন একজন পুরুষের শরীর ভিন্নভাবে ডিজাইনড। তার যৌন মিলনের ইচ্ছা নারীদের থেকে অবশ্যই বেশি। নারীদের শরীরে ডিম্বাণু আসে মাসে একবার আর পুরুষের শরীরে শুক্রাণু আসে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। পুরুষের শরীর সপ্তাহে সপ্তাহে হরমোন পরিবর্তন হয় না, একজন নারীর মতো। এখন, পুরুষের শরীরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তো নারীর সম্ভব না যৌনমিলনে সক্ষম হতে। এই বিষয়টি পুরুষদের উচিত বোঝার, সম্মান করার। একজন স্ত্রী থেকে প্রতিদিন যৌনমিলনের আশা করাটা উচিত নয়। আপনি আপনার স্ত্রীকে বুঝুন এবং সেই অনুযায়ী approach অ্যাপ্রোচ করুন। আপনি আপনার ইথিক্স, কমিটমেন্ট এবং শিক্ষার পরিচয় দিন।

অ্যাট দ্য সেইম টাইম, বিয়ে করেছেন বলে স্ত্রী আপনার সম্পত্তি এই ভেবে স্ত্রীর অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক সেক্স করা অন্যায়, এইটি ধর্ষণের সমতুল্য এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চর্চা না থাকলে তা পশুর সমতুল্য।

আমি আবার বলে নিচ্ছি, আমি ডাক্তার বা বায়োলজির ছাত্রী নই। শব্দ প্রয়োগে একটু রুঢ়তা থাকতে পারে, তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.