বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতারণার মামলা করিনি: আসিফ

0 32

স্ত্রী শামীমা আক্তারের সঙ্গে আপসের শর্তে ২৭ মে পর্যন্ত জামিন পেয়েছেন মডেল ও অভিনেতা আসিফ। গতকাল ২০ মে, রবিবার সকালে এ জামিন প্রদান করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর বিচারক শহীদুল ইসলাম।

দেড় বছর প্রেমের পর ২০১৫ সালে আসিফ কানাডা প্রবাসী শামীমা আক্তার অর্নিকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতেই শুরু হয় সাংসারিক টানাপড়েন। একপর্যায়ে শামীমা আদালতে আসিফের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।

তারপরই বিমানবন্দর থেকে ২৩ এপ্রিল রাতে আসিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, চলতি বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর আদালতে শামীমা বাদী হয়ে মামলা করেন। সে মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিচারক শফিউল আজম গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসিফ-অর্নির সংসারে এক সন্তান রয়েছে। অর্নি কানাডায় নার্সিং পেশার সঙ্গে জড়িত। আসিফের সঙ্গে কানাডা প্রবাসী শামীমা আক্তার অর্নির পরিচয় হয়েছিল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে।

জামিনের পর আজ ২১ মে সোমবার দুপুরে প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপ হয় আসিফের।

শামীমা বলছে কাবিন নামায় ‘তালাকপ্রাপ্তা’ উল্লেখ ছিল, আপনি বলছেন ‘কুমারী’ উল্লেখ ছিল। বিষয়টি একটু ক্লিয়ার করুন।

আসিফ: এ বিষয়টি কোর্টই ক্লিয়ার করুক। কারণ এটা তো আমার একটি এভিডেন্স। আমি শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, আমি এখানে কোনো ধরনের মিথ্যাচার করছি না। আমি আমার জায়গায় ন্যায়সঙ্গত আছি। মামলাটা যখন হয়েছে তখন কিন্তু আমি বিদেশে অবস্থান করছিলাম।

শামীমা অভিযোগ করছে এতদিন আমি দেখা করিনি, বাচ্চার মুখ দেখিনি। তাহলে আমি কীভাবে তাকে নির্যাতন করলাম? এ প্রশ্নটি ওঠা উচিত।

আমি কোনো নির্যাতন করিনি, কোনো যৌতুকও দাবি করিনি।

আপনি কি শামীমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাড়ি কিনেছিলেন?

আসিফ: সে (শামীমা) তার মামলায় লিখেছে ১৮ লাখ টাকা তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেটি দিয়ে গাড়ি কেনা হয়েছে। কিন্তু আমি যে গাড়িটি চালাই সেটা ২০১০ সাল থেকে চালাই। টয়োটা প্রিমিও গাড়ি। এটা আমি সত্যিকার অর্থে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে জানতে পেরেছে এ দামটি। কিন্তু সে দাবি করছে যে এই টাকাটা আমি তার কাছ থেকে নিয়েছি, যেখানে তার সঙ্গে আমার পরিচয়ই হয়েছে ২০১৪ সালের দিকে, বিয়ে হয়েছে ২০১৫ এর আগস্টে। আমি ২০১০ থেকে গাড়িটি চালাই, গাড়ির সকল ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। এটা গেল মামলার এক নম্বর পয়েন্ট।

আপনি কি মারধোর করতেন? কিংবা যৌতুক দাবি করেছেন?

আসিফ: সে (শামীমা) বলছে তাকে মারধোর করা হয়েছে। সেটা ৩ মার্চে। তার মা, খালা এবং বোনের সামনে। হাস্যকর কথা হচ্ছে আমি যে তাকে নির্যাতন করছি, সেটা তার মা, খালা ও বোন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল? দেখার পর তারা নাকি কোনো রিয়েক্ট করেনি, তারা শুধু হাসপাতাল নিয়ে গেছে। এভাবে কিন্তু মামলায় লেখা আছে। আমার কথা হচ্ছে, তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল কেন?

আমি গায়ে হাত তুলিনি। অভিযোগ করেছে যে, আমি নাকি তার সঙ্গে দেখাই করিনি, আমার বাচ্চার মুখই আমি দেখিনি। আমি যখন দেখাই করিনি, আমি তাকে মারলাম কীভাবে!

মারার যে স্থানের কথা বলছে, যে বাসার কথা বলছে, সে বাসায় আমি থাকি না ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে। আমার কাছে কিন্তু ওই বাসা ছেড়ে দেওয়া এবং নতুন বাসায় আসার কন্ট্রাক্ট পেপার, সবই আছে।

শামীমার আগের দুটি বিয়ে সম্পর্কে আপনি তাহলে কিছুই জানতেন না?

আসিফ: আমার আগে তার বেশ কয়েকটি বিয়ে হয়েছে। দুটি বিয়ের কথা সে (শামীমা) স্বীকার করেছে গণমধ্যমে। এর আগে কিন্তু একটি বিয়ের কথাও স্বীকার করেনি। ধীরে ধীরে স্বীকার করল তার একটা বিয়ে আছে। সে জন্য তালাকপ্রাপ্তা লেখা ছিল। আজ আবার গণমাধ্যমে সে দুটির কথা স্বীকার করেছে যখন সে প্রমাণ আটকাতে পারছে না। ভবিষ্যতে যখন আরগুলো প্রমাণ হবে, তখনই আপনারা বুঝবেন যে সে আসলে কোন প্যাটার্নের মানুষ। প্রাক্তন স্বামীগুলোর কাছ থেকে সে কী কী আদায় করেছে, কোনভাবে আদায় করেছে।

আপনাদের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শামীমা যদি আপনার সঙ্গে সংসার করতে চায়?

আসিফ: সে তো একজন প্রতারক। নিকাহ নামাতে একজন মানুষকে যখন কুমারী লিখে বিয়ে করা হয়, অথচ তিনি তালাকপ্রাপ্তা, একজন স্ত্রীর সম্পর্কে যদি তিন চারটি বিয়ের কথা শোনা যায়, কোনো পুরুষ কি তার সঙ্গে সংসার করেবে? সমাজের যে কোনো পুরুষের কাছে আমার প্রশ্ন, বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার পর, বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পর, বেশ কয়েকটি বিয়ের কথা প্রকাশ পায়, সেই পুরুষ সংসার করবে কি না? এটা এমন নয় যে আমি মানুষের মুখে শুনেছি, অ্যাম্বাসির মতো একটা অথেনটিক জায়গা থেকে আমাকে ইনফরমেশনটা দেওয়া হয়েছে সব কিছুর প্রমাণ দেখিয়ে।

আগের স্বামীদের সঙ্গে শামীমাকে যোগাযোগ রাখতে দেখেছেন কি?

আসিফ: বিষয় হচ্ছে, এ মেয়েটি অত্যান্ত ধূর্ত। সে তার প্রাক্তন স্বামীকেও কুমারী লিখে বিয়ে করেছে। এটা তার একটা প্যাটার্ন। এ প্যাটার্নে আগায়। ওই প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে তার যে ফেসবুক ছিল, সেটা কিন্তু এখন আর নেই। সেটা ডিঅ্যাক্টিভেটেড। আছে ঠিকই, সে চালায় মাঝে মধ্যে ওপেন করে। সেই আইডি যে ইমেইল দিয়ে খোলা, সেটাও সে ব্যবহার করে না। তার এগে যে ফোন নম্বর ছিল, সেটাও সে ববন্ধ করে রেখেছে।

তারপর?

আসিফ: আমার সঙ্গে সে যখন নতুন চ্যাপ্টার শুরু করল, সে তার পুরনো সব কিছুই পাল্টে ফেলল।

সে আমাকে স্টাডি করেছে। আমার পরিবার হিজাব করে। আমি মিডিয়ায় কাজ করি কিন্তু আমার পরিবার কনজারভেটিভ।

সে যখন স্টাডি করে দেখল যে আমার পরিবার কনজারভেটিভ, সে ওই রূপ ধারণ করল।

প্রাক্তন স্বামী যে ছিল, তার সঙ্গে সব কিছু সে অমিট করে দিলো কেন? সে তালাকপ্রাপ্তা, এখন দুটি বিয়ের কথা স্বীকার করছে, এতদিন পর্যন্ত একটার কথা স্বীকার করেছে। তার আগে স্বীকারই করেনি।

আমি আমার বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে তার নামে প্রতারণার মামলা করিনি। কারণ, বাচ্চা বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত হবে বিধায় তাকে হয়রানি করতে চাইনি।

এই যে আমি ন্যায় সঙ্গত আচরণ করলাম, এর প্রাপ্তি কী এটা!

যেই ডেটে বলা হচ্ছে যে আমি তাকে মারধোর করেছি, সেই ডেটে আমি দীপ্ত টিভিতে শুটিং করেছি সারাদিন। এটা কত বড় ধরনের মিথ্যাচার একবার চিন্তা করুন!

সেপারেশন হয়ে গেলে বাচ্চার দায়িত্ব কী আপনি নেবেন?

আসিফ: আমি শতভাগ আমার বাচ্চার কাস্টরি চাই। বাচ্চাটা আমাকে দিয়ে দিক, আমি চাই না বাচ্চা একটা অসুস্থ পরিবেশে বড় হোক। সে (শামীমা) আরেকটি মিথ্যাচার যেটা করছে বিভিন্ন জায়গায় বলছে, আমি নাকি দাবি করেছি এ বাচ্চা আমার নয়! অথচ আমার সঙ্গে যে কয়জন কথা বলেছে, কই কেউ তো আমার মুখ থেকে একবারও শোনেনি এ কথা। আমি সত্যের পথে আছি, আমি কোনো কিছু বানোয়াট বলছি না।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.