এক অসামান্য চলচ্চিত্রের কথা!

0 40

মানুষের জীবন মানেই এক অবিরাম সংগ্রামের গল্প। সেখানে রয়েছে উত্থান-পতন, দুঃখ, কষ্ট, সুখ, প্রেম ও প্রাপ্তির অসামান্য সমন্বয়। চলচ্চিত্র যখন জীবনের সেই চিরায়ত স্বরূপের প্রতিনিধিত্ব করে, তখন তা দর্শকের হৃদয়ে তৈরি করে এক আলাদা আকর্ষণ।

‘ব্রুকলিন’ মুভিটি তেমনই জীবনের এক সহজ-সরল চিত্রায়ন। কিন্তু এর গল্প, চরিত্র চিত্রায়ন এবং বাঁক-বদলের উত্তেজনা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে এক ভিন্ন অনুভূতির মাঝে। হলিউডে তৈরি হয় মুভিটি। পরিচালনা করেছেন আইরিশ নির্মাতা জন ক্রাউলি। আরেক আইরিশ লেখক-সাংবাদিক কম টইবিন এর ‘ব্রুকলিন’ উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে চলচ্চিত্রটি।

২০১৬ সালের অস্কার এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ তিনটি বিভাগে নমিনেশন পাওয়া এবং বাফটা এ্যাওয়ার্ড পাওয়া সিনেমাটি একটি ড্রামা এবং রোমান্টিক সিনেমা। ইংরেজি ভাষায় ১৯৫১ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটির গল্প এর ধারা এবং উপস্থাপন সত্যিই মনকাড়া।

সিনেমার মূল গল্পটা আবর্তন করে এইলিস ল্যাসি নামে এক আইরিশ তরুনীকে ঘিরে। মা এবং ছোটো বোন রোজকে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের এনিসকর্থি শহরের বাসিন্দা সে। ল্যাসি চাকরি খুঁজে বেড়ায় এবং পরবর্তীতে সে পার্টটাইম হিসেবে একটি বেকারির দোকানে কাজ করে। দোকানের মালিক মিস কেলি নামে একজন মহিলা। ল্যাসি সেই বেকারির দোকানেই ব্রুকলিন নিবাসী আইরিশ যাজক ফাদার ফ্লড এর সাক্ষাৎ পায়।

সেই যাজক এর সহায়তায় মেয়েটি আমেরিকার ব্রুকলিন শহরের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ফুল টাইম চাকরি পেয়ে যায়। ফলে আয়ারল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক শহরে আসে ল্যাসি। নতুন শহরে জীবন মোড় নেয় ভিন্ন খাতে। সেখানে সে প্রথমে মানিয়ে নিতে পারে না। নস্টালজিক মন ফিরে যায় তার পরিবার ও দেশ এর কাছে। মানসিক ভাবেও কিছুটা ভেঙ্গে পড়ে ল্যাসি।

এরপরই হঠাৎ করে তার সাথে পরিচয় হয় টনি ফিওরেলো নামে ইটালিয়ান তরুণের সাথে। দুজনের জীবনে বসন্ত নিয়ে আসে প্রেম। আকস্মিকভাবে এ পর্যায়ে বোনের মৃত্যুর জন্য আয়ারল্যান্ডে ফিরতে হয় ল্যাসিকে। তবে ফিরে আসার ঠিক আগে গোপনে টনির সাথে বিয়েটা সেরে ফেলে মেয়েটি।

তারপর আয়ারল্যান্ডে এসে গল্প ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ল্যাসি ব্রুকলিনে আর ফিরে যেতে চায় না। টনির সাথে শেষতক পুনর্মিলনটা ঠিকই হয় তার। তবে তার আগে রয়েছে অনেকগুলো চমক! সেগুলোর আনন্দ নিতে হলে আপনাকে দেখতেই হবে চলচ্চিত্রটি।

শুধু এটুক বলা যায় যে, দর্শককে একটানা ধরে রাখার ক্ষমতা সিনেমাটি রাখে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, নারীর ক্ষমতায়ন; যা আমাদের দেশে এখনও অতটা সহজ নয়। ১৯৫১ সালের প্রেক্ষাপট একটি মেয়ের জীবন সংগ্রাম, সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত খাপ খাওয়ানোর লড়াই এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে গতিশীল রাখার অদম্য প্রয়াস আপনাকে মুগ্ধ করবে অবশ্যই।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.