আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না হলে সুফল মিলবে না

0 22

দীর্ঘ আট বছর সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সড়ক পরিবহন আইন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা আইনটির খসড়া অনুমোদন করেছে। এতে অনেক ভালো বিধান রয়েছে। কিন্তু সড়কে দুর্ঘটনা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনামতো বেপরোয়া গাড়ির কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্তত সাত বছর কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলাম নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে।

চূড়ান্ত খসড়ায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সাজা যত বছরই রাখা হোক, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না হলে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে না। খসড়ায় ৩০৪(খ) ধারায় বিচারের সুপারিশ রয়েছে। পুলিশ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দিতে পারবে। তবে পুলিশের তদন্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই পরিস্কার করা দরকার ছিল, কোন ধারায় মামলা হবে।

৩০২ ধারায় মামলা হলেও চালক যদি নির্দোষ হন, তাহলে খালাস পাবেন। তাই বেপরোয়া গাড়ির চাপায় মৃত্যু হলে ৩০২ ধারায় মামলা হলেই ভালো হতো। আবার অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনায় চালকের দোষ থাকে না। পথচারীর ভুলে, সড়কের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। সড়কের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ী কর্মকর্তাদের  বিচারের আওতায় আনা হবে, যা খুবই ভালো বিধান।

সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ক্ষতিপূরণ। একজন মানুষের মৃত্যুতে তার পুরো পরিবারে প্রভাব পড়ে। ক্ষতিপূরণ পেলে নিহতের পরিবারের জন্য সহায় হয়। আইনের খসড়ায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। যাত্রীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। এগুলো আইনের ভালো দিক।

চালককে নিয়োগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চালককে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। এগুলো ভালো বিধান। কিন্তু সবকিছুই নির্ভর করছে প্রয়োগের ওপর। যত ভালো আইনই হোক, প্রয়োগ না হলে কোনো লাভ নেই।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও সদস্য জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.