মুক্ত ধারা আয়োজিত বই মেলা

0 25

গল্পে আড্ডায় নানা রকম খাবারে ,হাজারো মানুষের ভালোবাসায় শেষ হয়ে গেল মুক্ত ধারা আয়োজিত এবছরের বই মেলা। নতুন লেখক দের জায়গা করে দেয়ার জন্য বিশ্বজিত দাদা কে ধন্যবাদ ।

প্রতি বছরই মেলায় যাই , নতুন বইয়ের গন্ধ আমাকে নেশা ধরায়।কিছু প্রিয় মানুষের লিখা আমাকে টানে তারই খুঁজে যাই। লেখক বন্ধু দের সাথে আড্ডা দিতে যাই।ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছি এদেশে বসবাসকারী বেশ কিছু অসম্ভব মেধাবীর লেখনি । কাকে আগে পডব এ নিয়ে রোজই নিজের সাথে কথা বলি। কবিতার প্রতি দিনের ট্রেন যাত্রা আর গল্পের জন্য রাত ,কিছু সিরিয়াস বই যার মধ্যে অবাক বাংলাদেশ -আকবর আলি ,সংগটন ও বাংঙালী -আবদুল্লাহ আবু সাইদ, -বাংগালি মুসলমানের মন- আহমেদ ছফা এগুলির জন্য শনিবার রাত টা বরাদ্দ ।

যা বলছিলাম ,প্রতি বছরই লোকসমাগম বাড়ছে।বইয়ের পাশাপাশি রকমারী পন্যর স্টল ও চোখে পরার মত।দেশে যেমন বানিজ্য মেলায় প্লাস্টিক পন্য আর জুয়েলারীর দোকানে মানুষের ভীড় থাকে এখানে ও তার তারতম্য হয় নি।আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি বইয়ের চাইতে এসব পন্যের বিক্রি বেশি হয়েছে।

মেলায় আসা মানুষদের মধ্যে পত্রিকা,মিডিয়া সাংবাদিক ,ফটোগ্রাফার এবং লেখকের সংখ্যা যেমন ছিলো তেমনি দেখকের সংখ্যা ছিলো আরো বেশি। এখন আবার নতুন যোগ হয়েছে ফেইসবুক লাইভ। ভাই আপনি কি লাইভে ! শুনতে দারুন শুনায়।

বই হাতে ছবি তুলে যত্ন করে রেখে দেওয়া ছিলো চোখে পরার মত।শেষ দিনে ভাবছিলাম এতত লেখক যদি এক লেখক অন্য লেখকের বই কিনতেন কেমন হতো..তাও চোখে পড়ে নি।কয়েক জন কে জিগ্যাস করেছিলাম কার বই কিনলেন ? শুনলাম শাড়ি কিনে নাকি উনার টাকা শেষ। কথায় যুক্তি আছে।

বিখ্যাত মানুষদের দেখলে আমি ছোট হয়ে যাই। ছবি তোলার সাহস হয় না তবে কথা শুনেছি মুগ্ধ হয়ে। প্রশ্ন ছিলো এযুগের বাচ্চা দের কিভাবে বাংলা সাহিত্য পড়াবো।প্রশ্ন করা হয়নি , ছবির ভিড়ে কথা হারিয়ে গেছে।

এখানে পুরো সামার জুড়েই নানা রকম মেলা হয় , ঐ শাড়ী চুড়ির মেলা । নানান জেলার হাজার রকম সমিতি তাদের মেলায় ও ঐ একই জিনিস শাড়ী চুডি।এসব আমার ও খুব পছন্দ । সাধ্য নেই বলে কেনা হয় না।

আসি বইয়ের প্রসংগে আমরা একটা দিন কেন শাড়ি চুডি না কিনে বই কিনি না ? চলেন আমাদের ছেলে মেয়েদের বই পড়তে শেখাই।

বই মেলা যেন হয়ে না যায় শুধুই ছবির তোলার মেলা ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.