ক্রোয়েশিয়ার সেই সুন্দরী প্রেসিডেন্টের বয়স কত জানলে চমকে যাবেন!

0 18

সেই সুন্দরী প্রেসিডেন্টের- কখনও টিমের জন্য গলা ফাটাচ্ছেন, কখনও ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠছেন উদ্দাম সেলিব্রেশনে। দেখে কে বলবে তিনিই ছোট্ট দেশটার প্রথম নাগরিক।

প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার কিটারোভিচ। পাপারাৎজিরা কেন তাঁর পিছু ছাড়ে না? বছর দুয়েক আগে নাকি তাঁর বিকিনি পরা ছবি ঝড় তুলেছিল ইন্টারনেটে? তিনি নাকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও ফ্লার্ট করতে ছাড়েন না!

র‌্যকিটিচ, মানজুকিচদের ফুটবল স্কিলে যখম সম্মোহিত ক্রীড়া দুনিয়া, তখন ক্রোটদের সুন্দরী প্রেসিডেন্টের প্রাণোচ্ছ্বলতায় মজেছে নেট দুনিয়া।

বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে ঘিরে যখন নিরাপত্তার বাড়বাড়ন্ত, তখন তিনি প্রেসিডেনশিয়াল প্রোটোকলের বালাই করেন না। সেলিব্রেট করতে কখনও ঢুকে পড়েন খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে, কখনও উঠে পড়েন প্লেনের ইকোনমি ক্লাসে।

১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন কোলিন্ডা। এখন তিনি দুই সন্তানের মা। তাঁর বড় মেয়ে ক্যাটারিনা একজন প্রফেশনাল স্কেটার। জাতীয় পর্যায়ে ক্রোয়েশিয়ার জুনিয়ার চ্যাম্পিয়নও বটে।

ক্রোয়েশিয়ার কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট তিনি। বয়স ৫০ বছর। ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথগ্রহণ করেন। তার আগে ছিলেন ন্যাটো-র গুরুত্বপূর্ণ পদে।

প্রায় দু-দশকের কেরিয়ারে সামলেছেন নানা কূটনৈতিক পদ, কাজের সুবিধার্থেই শিখেছেন বহু ভাষা। মোট ৮টি ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি।

প্রতি বছরই কোনও না কোনও কারণে মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন কোলিন্ডা কিটারোভিচ। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোল্যান্ড সফরের সময়, তিনি ও ট্রাম্প একাধিকবার একসঙ্গে ফ্রেমবন্দি হন।

সেখানে ক্রোট প্রেসিডেন্টের চাহুনি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভালমতো চর্চাও হয়। কোলিন্ডা অবশ্য বরাবরের মতো এসব নিয়ে চুপই থেকেছেন।

বছর দুয়েক আগে তাঁর একটি বিকিনি পরা ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। অবশ্য পরে দেখা যায় ছবিটি তার নয়। কোকো অস্টিন নামে এক মার্কিন মডেলের ছবিকেই তাঁর ছবি বলে ভুল করছিল জনতা।

ভিন্ন দেশ হলেও আমরা মুসলিম উম্মাহভুক্ত : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, আশা করি ইমাম সেরাহসি কেন্দ্রীয় মসজিদ’ কিরগিজস্তান ও তুরস্কের জনগণের মধ্যে ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের স্মারক হয়ে থাকবে। এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে একতা ও শান্তি নিয়ে আসবে। কারণ ভিন্ন দেশ হলেও সর্বোপরি আমরা মুসলিম উম্মাহভুক্ত।

রোববার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি মসজিদ উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন এরদোগান। মসজিদ উদ্বোধনকালে এরদোগানের সাথে উপস্থিত ছিলেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবে জিনবেকভ।

উসমানীয় বা অটোমান স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি মসজিদটি নির্মাণে ৬ বছর সময় লেগেছে। এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তুরস্ক। এই মসজিদটিকে সামাজিক ও ধর্মীয় কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। রয়েছে সুপরিসর পার্কিং লট। মধ্য এশিয়ায় এটিই এ ধরনের বৃহত্তম মসজিদ।

২০১২ সালে ৩৫ একর জমির ওপর মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১১ শতকের একজন প্রসিদ্ধ আলেমের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদটিতে ৬৮ মিটার উঁচু চারটি মিনার রয়েছে।

এখানে একসাথে ৯ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। আর মূল মসজিদ এবং এর চত্বর মিলিয়ে একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন ৩০ হাজার মুসল্লি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ‘তুরস্ক কারো হুমকির ভাষাকে তোয়াক্কা করে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে গ্রেফতার করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র হুমকিমূলক বিবৃতি দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

এরদোগান বলেন, ‘আমাদের হুমকি দিয়ে কেউ কোনো দিন কিছু অর্জন করতে পারেনি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংহতি দেখিয়েছি। কোরিয়া যুদ্ধের সময়ও আমরা তাদের সাথে ছিলাম।

তুরস্কের জন্য এ রকম অপমানজনক ভাষার হুমকিকে বিবেচনায় নেয়া ঠিক হবে না যেখানে আমরা ন্যাটোর প্রতি সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করুন, কিন্তু এরপরও আমরা এমন হুমকিকে তোয়াক্কা করব না।’

২৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচন না করেই আরো ১৯ মাস ক্ষমতায় থাকতে পারতেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

কিন্তু তুরস্ককে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে সাংবিধানিক সংস্কার ছাড়া হাত খুলে কাজ করার সুযোগ না থাকায় নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের ফলফল তার পক্ষেই এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এতো বড় চ্যালেঞ্জ নেয়ার সাহস কিভাবে সঞ্চয় করলে তিনি?

এই নেতার অতীত জীবনের দিকে তাকেলে দেখা যায়, শৈশব থেকেই নানা বাঁধা মোকাবেলা করে অবস্থ তিনি। কোস্ট গার্ডের সদস্য বাবা যখন পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ইস্তান্বুলে আসেন, তখন এরদোগানের বয়স মাত্র ১৩ বছর।

সবার পড়াশোনার জন্য যে পরিমাণ অর্থের দরকার তা বাবার বেতন দিয়ে সামলানো যাচ্ছিল না। এই অবস্থায় জীবনের প্রথম চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন নিজের লেখা-পড়ার খরচ জোগার করার জন্য।

রাস্তায় রাস্তায় রুটি, তিল আর লেবু বিক্রি করতেন জীবিকা নির্বাহের জন্য! তার শৈশবের অবস্থা তিনি নিজেই বর্ণনা করেন এক সমাবেশে, ‘আমার সামনে তখন লেবু বিক্রি করা ছাড়া আর কোন পথ ছিল না। যা দিয়ে আমি আমার আব্বাকে সাহায্য করতাম এবং আমার প্রাথমিক শিক্ষার খরচ যোগাড় করতাম’।

জীবনযুদ্ধে থেমে না যাওয়া এই মহানায়ক মাদ্রাসার পাঠ চুকিয়ে তুরস্কের মার্মারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে গ্র‍্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন । ছাত্র অবস্থায় ফুটবল খেলা ছিল তার শখ। তুরস্কের বিখ্যাত ক্লাব ফেনারবাচ থেকে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা রাজি না হওয়ায় প্রিয় খেলাকে বিদায় জানাতে হয়েছিল তখন।

কর্মজীবনে তিনি ইমাম হিসাবেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন। তুরস্কের পার্লামেন্ট মসজিদের পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন। এছাড়া এরদোগান পৃথিবীর একমাত্র কোরানে হাফিজ রাষ্ট্রনেতা, তার উদ্যোগে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় তুরস্কে।

১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা ২০১৪ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হবার আগ পর্যন্ত এরদোগান ১১ বছর তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.