পালং শাকের অসাধারণ ৮টি গুণ

0 10

স্বাস্থ্যসেবা ডেস্ক ॥
পালং শাকে উপস্থিত থাকা নানাবিধ উপাকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ক্যান্সারে উপসর্গ প্রতিরোধ করাসহ নানা উপকার সাধন করে থাকে। এছাড়াও রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ, পেশির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো মরণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।

নিম্নে পালং শাকের গুণাগুণ আলোচনা করা হলো-

১) ওজন নিয়ন্ত্রণে

একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয় যে নিয়মিত ১০০ গ্রাম করে সেদ্ধ পালং শাক অথবা এক গ্লাস পলং-এর রস খাওয়া শুরু করলে শরীরে ডায়াটারি ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে বহুক্ষণ পেট ভরা থাকে। আর এমনটা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম পরিমাণে খাওয়ার কারণে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

২) সূর্যের অতিবেগুণি রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা

পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি রয়েছে যা সূর্যের অতিবেগুণি রশ্মির থেকে আপনার ত্বককে সুরক্ষা করে।এর ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। স্কিন ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩)ক্যান্সার থেকে দূরে রাখে

পালং শাকে উপস্থিত থাকা ফ্লেবোনয়েড শরীরে ক্যান্সার জন্ম নিতে বাধা দেয়। ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। ফলে এই মরণ রোগটি শরীরের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৪) দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে

এই শাকটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জ্যান্থিন, যা রেটিনার ক্ষমতা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই শাকটিতে উপস্থিত ভিটামিন এ আই আলসার এবং ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫) চুল পড়া কমায়

অতিরিক্ত হারে চুল পড়ছে নাকি? তাহলে আজ থেকেই চুলের পরিচর্যায় পালং শাককে কাজে লাগাতে শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। আসলে এই শাকটিতে উপস্থিত আয়রন, হেয়ার ফলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি দেহের ভেতরে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পালং শাকের রস বানিয়ে ভাল করে চুলে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিতে হবে, সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। আর যদি এইভাবে চুলের পরিচর্যা করতে মন না চায়, তাহলে নিয়মিত পালং শাকের রসও খেতে পারেন। কারণ এমনটা করলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

৬) ব্রেনের পাওয়ার বৃদ্ধিতে

পটাশিয়াম, ফলেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই শাকটি যদি প্রতিদিন খাওয়া যায়, তাহলে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে স্মৃতিশক্তি  বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পটাশিয়ামের কারণে মনোযোগ ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে।

৭) ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পালং শাকে উপস্থিত ভিটামিন কে এবং ফলেট ত্বককে ফর্সা করে তোলার পাশাপাশি ডার্ক সার্কেলকে দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পালং শাক দিয়ে বানানো পেস্ট যেমন মুখে লাগাতে পারেন, তেমনি পালং শাকের রস খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

৮) ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে

আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এই খনিজ পদার্থটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ভারসাম্য ফিরে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রসঙ্গত, পালং শাকে থাকা ফলেটও ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯) পেশির ক্ষমতা বাড়াতে

জার্নাল অব কার্ডিওভাসকুলার নার্সিং- এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে পালং শাকের ভেতরে থাকা নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, হার্টের পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারা শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য পেশির শক্তি বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে একদিকে যেমন হাইপারলিপিডেমিয়া, হার্ট ফেলিওর এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, তেমনি সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

১০) হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি

অ্যামাইনো অ্যাসিড হল এমন একটি উপাদান, যা মেটাবলিজম রেট বাড়ানোর মাধ্যমে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রচুর মাত্রায় রয়েছে পালং শাকে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন এই শাকটির রস নিয়মিত খেলে কী হতে পারে।

সূত্র: বোল্ড স্কাই

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.