রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টার কারাদণ্ড

0 21

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের কাছে তথ্য গোপনের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক প্রচারণা উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপোলোসকে (৩১) ১৪ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

স্থানীয় সময় ৭ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পাপাডোপোলোসকে এ কারাদণ্ড দেয় ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালত।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের কয়েকজনের বৈঠকের সময় নিয়ে মিথ্যা বলায় গত অক্টোবরে পাপাডোপোলোসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রমাণ করতে গিয়ে ট্রাম্পের সাবেক এই উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, পাপাডোপোলসকে ১২ মাসের নজরদারিতে রাখা হবে। একই সঙ্গে ২০০ ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিস দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ৯ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার জরিমানাও দিতে হবে।

ওই সময় পাপাডোপোলস আদালতকে বলেন, তিনি একজন ‘দেশপ্রেমিক আমেরিকান’। তার জন্য দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এফবিআইকে মিথ্যা বলার জন্য তিনি ‘অত্যন্ত বিব্রত ও লজ্জিত’।

আদালতে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘তার পুরো জীবন ওলটপালট হয়ে গিয়েছে’ এবং নিজেকে মুক্ত করতে দ্বিতীয় সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

আদালতের বাইরে পাপাডোপোলসের আইনজীবী টমাস ব্রিন জানান, তার মক্কেল বোকা ও এফবিআইয়ের কাছে বোকার মতো মিথ্যা বলেছেন।

ঘটনার নেপথ্যে

পাপাডোপোলস ট্রাম্প ও প্রচার শিবিরের জাতীয় নিরাপত্তা দলের অন্য সদস্যদের ২০১৬ সালের নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পাপাডোপোলস দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রচার শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ দুজনের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রচার শিবিরে যোগ দেওয়ার পর দেখা করেছিলেন।

পাপাডোপোলস লন্ডনে একজন পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। পরে ২০১৬ সালের মার্চে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রফেসর জোসেফ মিফসুদের সঙ্গে দেখা করেন।

প্রফেসর জোসেফ মিফসুদে তাকে বলেছিলেন, রাশিয়ার কাছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ‘নোংরামি’র প্রমাণ হিসেবে হাজার হাজার ই-মেইল রয়েছে।

২০১৬ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পানশালায় গল্প করতে করতে পাপাডোপোলস অধ্যাপক মিফসুদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বলেছিলেন। এর দুই মাস পর ই-মেইলগুলো প্রকাশিত হয়। এরপর ওই রাষ্ট্রদূত মার্কিন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.