আম্পায়ারকে ‘চোর’ বললেন সেরেনা

0 15

স্বপ্ন ছিল নারী টেনিসে নতুন ইতিহাস গড়া। ২৪তম গ্র্যান্ডস্লাম জিতে কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টকে স্পর্শ করা। সবই জলে গেল সেরেনা উইলিয়ামসের। গত শনিবার জাপানের নাওমি ওসাকার কাছে হেরে ইউএস ওপেনের সপ্তম ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পেলেন না যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণকলি।

সাদামাটাভাবে ম্যাচের চিত্রনাট্যটা এভাবে শেষ হলে হয়তো এতটা আলোচনা হতো না। কিন্তু ফ্ল্যাশিং মিডোয় সেরেনা যে নাটকের জন্ম দিলেন তাতে গোটা বিশ্বে হৈচৈ। চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্ক, তেড়ে যাওয়া, কোর্টে র‌্যাকেট ভাঙা থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষে নূন্যতম সৌজন্যবোধও দেখাননি। এখানেই শেষ নয়, কার্লোস রামোসকে চোর বলেও সম্বোধন করেছেন সেরেনা।

ঘটনাটি দ্বিতীয় সেটের সময়, সেরেনার কোচ প্যাট্রিক মোরাতোগলু পাশ থেকে হাত নেড়ে কিছু একটা বলেন। বলা যায় পরামর্শ। তাতে চোখ যায় চেয়ার আম্পায়ারের। প্রথম দফায় সেরেনাকে এ নিয়ে সতর্ক করেন রামোস। তাতেই বেঁধে যায় লঙ্কাকাণ্ড। আম্পায়ারের অভিযোগ নিজেকে খাটো করেছে-এমনটা ভেবে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সেরেনা। দ্বিতীয় সেটে যখন ৩-২-এ পিছিয়ে পড়েন, তখন রাগে র‌্যাকেট ভেঙে ফেলেন ৩৬ বছর বয়সী সেরেনা।

এরপর তাকে পয়েন্ট পেনাল্টি করেন রামোস। পয়েন্ট খুইয়ে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সেরেনা। একপর্যায়ে রেফারিকে চোর সাব্যস্ত করেন এবং বলতে থাকেন, এটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। এটা উচিত নয়। রামোসকে লক্ষ্য করে সেরেনা বলেন, ‘আপনি মিথ্যাবাদী, আপনি যতদিন বাঁচবেন আর আমার কোর্টে থাকবেন না।’

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেও হার-জিতকে পাশ কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে স্থান করে নেয় সেরেনা বনাম রামোসের লড়াইটা! যেন ইউএস ওপেনের ফাইনালে নাওমি ওসাকার সঙ্গে খেলেননি সেরেনা। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন সেই চেয়ার আম্পায়ার, ‘আমি কোচের দিকে তাকাইনি। তার কোনো পরামর্শও নেইনি। চিটিং করে জেতাটা আমার কাজ নয়।’

কোচ অবশ্য সেরেনাকে পরামর্শ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আমি সৎ থাকার চেষ্টা করি। আসলে আমি তাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। নাওমির কোচও এটা করেছে। তবে সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল কি-না বলতে পারছি না।’

পেশাদার টেনিসের নিয়ম অনুযায়ী, ডব্লিউটিএ ট্যুরে ম্যাচ চলাকালীন কোনো কোচ তার শিষ্যকে পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু গ্র্যান্ডস্লামে এটা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এটা হয়তো ভুলেই গেছেন সেরেনার কোচ প্যাট্রিক।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.