‘আমরা আরও কাছে এলাম, সম্পর্ক আরও গভীর হলো’

0 6

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম। আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো।

’ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচটায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলায় তিনি একথা বলেন। যদিও অনুষ্ঠানে বাকি বক্তব্য হিন্দিতে দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিহাসের ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথা জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট আসবে ভারতের সরকারি খাত ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট’ থেকে। ২০০ মেগাওয়াট আসবে সে দেশের বেসরকারি খাত ‘পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন’ থেকে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ৬৬০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

এদিকে বংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণকাজও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

একই অনুষ্ঠানে দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মৌলবীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পেরও নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন ও কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফরমে পৃথক সুধী সমাবেশের আয়োজন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থের যোগান দিচ্ছে ভারত। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ মোট ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে আগরতলা অংশে পাঁচ কিলোমিটার আর বাকি ১০ কিলোমিটার আখাউড়া অংশে। রেলপথটি আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে শেষ হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.