এভাবেও হারতে জানে বাংলাদেশ!

0 49

খেলার মাঠে প্রতিশোধ শব্দটা ঠিক সেভাবে ব্যবহৃত হয় না। জয়-পরাজয়কে প্রতিশোধের সাথে মেলানো পছন্দ নয় বেশিরভাগ খেলোয়াড়েরই। তবে শ্রীলঙ্কার কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের কাছে এটা প্রতিশোধের চেয়েও বেশি হতে পারে। লঙ্কানদের কোচ হওয়ার পর প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় হার চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে তাকে। এবার সেটা পুষিয়ে নিলেন ১০ উইকেটের বিশাল জয়ে। সাথে মিলে গেলো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের টিকেটও।

বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটে হেরে গেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ পুরো ইনিংসে উল্টো পথে হেঁটেছে। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৪ ওভারে ৮২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। যে রান ১১.৫ ওভারেই তুলে নেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা (৪০*) ও উপুল থারাঙ্গা (৩৪*)। বাংলাদেশ যে এভাবেও হারতে জানে, সেটা হয়তো অনেকই ভুলে গিয়েছিলো।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন করুণ হার কখনোই মেনে নিতে হয়নি বাংলাদেশকে। ঘুরিয়ে বলা যায়, ৩৮.১ ওভার (২২৯ বল) হাতে রেখে বাংলাদেশকে আগে কখনোই হারাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের আগে এমন দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া হার যেন বংলাদেশকে আগাম বার্তাই দিয়ে রাখলো এই বলে যে, ফাইনালেও প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা এমন দাপুটে চেহারায় দেখা দিতে পারে। সেটা সামলাতে যা প্রস্তুতি নেওয়ার একদিনেই নিতে হবে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জয়ে সিরিজ থেকে ছিটকে গেল জিম্বাবুয়ে।

৫০ ওভারের ম্যাচ বিকেলের আগেই শেষ। তিন ঘন্টাতেই খেল খতম। দিবারাত্রির ম্যাচে ফ্লাড লাইট জ্বালানোর সুযোগও হলো না। গলির ক্রিকেটই মনে হয়েছে। ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার গুনাথিলাকা ও থারাঙ্গার ব্যাটিংও সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছিলো। বাংলাদেশের কোনো বোলারকেই পাত্তা দিচ্ছিলেন না একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকানো এই দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান। মাশরাফি, মুস্তাফিজ, সাকিব, নাসিররা পরিণত হয়েছিলেন দর্শকে।

দুঃস্বপ্নও বললেও যেন বাংলাদেশের ইনিংসের অবস্থার প্রকাশ পায় না। এমন ছন্দে থাকা দলও যে এভাবে ব্যাটিং করতে পারে, বাংলাদেশের ইনিংস না দেখলে বোঝা যেত না। খোদ ক্রিকেটই যেন বাংলাদেশের ওপর মুচকি হেসে বলে দিলো, এই খেলাটা এমনই অনিশ্চয়তায় ভরা। সেটা ভুলে গেলে চলবে না কি!

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশই কি না ৮২ রানে প্যাকেট। আগের তিন ম্যাচেও ব্যাটিং নিয়ে অস্বস্তি ছিলো, বলা হচ্ছিলো ভুল শুধরে নেওয়ার কথা। কিন্তু অস্বস্তি কতটা হতে পারে বৃহস্পতিবার সেটার স্বাক্ষী হয়ে রইলো মিরপুর স্টেডিয়াম। প্রথম দুই ম্যাচে তামিম ইকবালের করা ৮৪ রানের গণ্ডিও পেরনো হলো না।

এমন অভিজ্ঞতা ২০১৪ সালের পর আর হয়নি বাংলাদেশের। সর্বশেষ ২০১৪ সালের আগস্টে উইন্ডিজ সফরে ১০০ এর নিচে অলআউট হয়েছিলো মুশফিকুর রহিমের দল। ইনিংস থেমেছিলো ৭০ রানে। অবশ্য একই বছরের জুনে ভারতের বিপক্ষে এই মিরপুরেই ৫৮ রানের লজ্জায় পড়তে হয়েছিলো বাংলাদেশকে।

এরপর কেবলই উত্থানের গল্প লিখেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। বিশেষ করে ঘরের মাঠে অপরাজেয় দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। সেই দলটিই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হামাগুঁড়ি দিয়ে ৮০ পেরলো। ২৬ ওভার বাকি থাকতেই সব গুছিয়ে ফিরতে হলো ড্রেসিংরুমে। বাংলাদেশের চেহারা বোঝাতে ব্যাটসম্যানদের দুই-একটি ইনিংসের বর্ণনাই যথেষ্ট হতে পারে।

সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। এই রান তুলতেও তাকে কতটা যুদ্ধ করতে হয়েছে প্রমাণও স্কোরকার্ডে স্পষ্ট। ২৬ রান তুলতেই ৫৬টি বল খেলতে হয়েছে তাকে। যেখানে একটি মাত্র চার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসের জের টানলে ৮২ রানও বহু দূরের পথ মনে হতে পারে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন সাব্বির রহমান, ১০।

বাকি ব্যাটসম্যানরা দুই অঙ্কের ঘরেও যেতে পারেননি। আগের তিন ম্যাচের ব্যাটিং কান্ডারি তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানও এদিন ব্যর্থদের তালিকায়। তামিম পাঁচ আর সাকিব করেছেন আট রান। বরাবরের মতো এ ম্যাচেও ব্যর্থ এনামুল হক বিজয়। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০ বল মোকাবেলা করে সাত রানের যোগান দিয়েছেন।

এরপর নাসির হোসেন, আবুল হাসান রাজু, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারা যোগ দিয়েছেন আসা যাওয়ার মিছিলে। আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে লড়াকু হয়ে ওঠা দুই পেসার রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানও কিছু করতে পারেননি। সব মিলিয়ে অচেনা ব্যাটিংয়ে দিশেহারা এক বাংলাদেশের দেখা মিললো। সাথে জুটলো ১০ উইকেটের বিশাল এক হার। যে হারে জড়িয়ে থাকলো অনেক বার্তাই।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.