কেন বলিউডে এত জনপ্রিয় মাধুরী?

0 43

বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। তিনি হলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, প্রযোজক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। একটা সময় তাকে বলিউডের সেরা অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হতো। কারণ ওই সময় তিনি নাচে, গানে, অভিনয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেখিয়ে ছাড়তেন। এই কারণে অভিনয় জীবনে তিনি ছয়টি ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

এছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্রে অনবদ্য ভূমিকার জন্য মাধুরীকে ২০০৮ সালে ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। আজ ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য থাকছে এই নায়িকার জানা-অজানা নানা অধ্যায়। যেভাবে তিনি নিজেকে এই আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন-

সময়টা ১৯৮৪ সাল। ওই বছরে বলিউডে আবির্ভাব ঘটেছিল মাধুরীর। মূলত ‘অবোধ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম পর্দায় হাজির হন তিনি। এরপর ১৯৮৮ সালে এসে তিনি মারপিটধর্মী প্রণয়মূলক চলচ্চিত্র ‘তেজাব’-এর মাধ্যমে প্রথম বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করেন ও দর্শক মহলে বিপুল সাড়া ফেলেন।

আর ‘তেজাব’ মুক্তির পর এক মিনিটের জন্য পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাধুরীকে। ১৯৮০ এবং ১৯৯০-র পুরো দশক তিনি হিন্দি সিনেমার নেতৃত্বদানকারী অভিনেত্রী ও শীর্ষস্থানীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময় মাধুরী ‘রাম লক্ষণ’ (১৯৮৯), ‘ত্রিদেব’ (১৯৮৯), ‘কিশেন কানাইয়া’ (১৯৯০), ‘দিল’ (১৯৯০), ‘সাজন’ (১৯৯১), ‘বেটা’ (১৯৯২), ‘খলনায়ক’ (১৯৯৩), ‘হাম আপকে হ্যায় কোন’ (১৯৯৪), ‘রাজা’ (১৯৯৫) ‘ও দিল তো পাগল হ্যায়’ (১৯৯৭) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়াও তিনি ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’ (১৯৮৯), ‘পরিন্দা’ (১৯৮৯), ‘প্রহার’ (১৯৯১), ‘আঞ্জাম’ (১৯৯৪), ‘মৃত্যুদণ্ড’ (১৯৯৭), ‘পুকার’ (২০০০), ‘লজ্জা’ (২০০১), ও ‘দেবদাস’ (২০০২) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত করেন।

এরপর একটি দুঃসংবাদ নেমে আসে বলিউডে। বিয়ে করে অনেকটা গোপনে চলে যান মাধুরী। পরে ভক্তদের টানে আবারো ফিরে আসেন তিনি। বছর দশেক আগে তিনি সংগীত-নৃত্যধর্মী ‘আজা নাচলে’ চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং পরবর্তী দশকে ব্ল্যাক কমেডিধর্মী ‘দেঢ় ইশ্‌কিয়া’ (২০১৪), অপরাধ নাট্যধর্মী ‘গুলাব গ্যাং’ (২০১৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার প্রথম মারাঠি চলচ্চিত্র ‘বাকেট লিস্ট’ (২০১৮) এবং তার সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র ‘টোটাল ধামাল’ (২০১৯)। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়েছিল যে, মাধুরী আজো সফল।

এদিকে, মাঝে মাধুরীকে চলচ্চিত্রে পাওয়া না গেলেও তিনি ঠিকই ছিলেন সংবাদ মাধ্যমের খবরে। কারণ ওই সময় তিনি মানব হিতৈষী কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশুদের অধিকার ও শিশুশ্রম বন্ধের জন্য কাজ করেছেন। তিনি ভারত সরকারের ‘বেটি বাচাও বেটি পড়াও’ (মেয়েকে বাঁচাও মেয়েকে পড়াও) ক্যাম্পেইনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করেন। সব মিলিয়ে এক ধরনের সমাজসেবার কাজে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।

মাধুরী ক্যারিয়ারে একাধিক কনসার্টে সফর ও মঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সনি টিভি’র ‘কাহিঁ না কাহিঁ কোই হ্যায়’ অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন এবং নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঝলক দিখ লা জা’, ‘সো ইউ থিংক ইউ ক্যান ড্যান্স’ ও ‘ড্যান্স দিওয়ান’-এ অনুষ্ঠানের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মূলত এই নায়িকা বলিউড থেকে বিদায় নেন। কারণ ওই সময় ১৯৯৯ সালে মাধুরী শ্রীরাম মাধব নেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে দুটি সন্তানও রয়েছে।

বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক সঞ্জয় দত্ত তো তার রূপে মুগ্ধ হয়ে মাধুরীকে মন দিয়েই বসেছিলেন, এই কথা হয়ত অনেকের জানা। তবে সালমান খান যে, এখনো পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সেরা নায়িকা মাধুরীকেই ভাবেন, তা কী জানেন কেউ? আর বলিউড কিং খান শাহরুখ বলেন, মাধুরী হলো সেরা সুন্দরী রমণী, সে অনন্য। বলিউডে তার কোনো বিকল্প নেই। মাধুরী ক্যারিয়ারে বিনোদ খান্নার সঙ্গে যেভাবে রোমান্স করেছেন, তেমনি অক্ষয় খান্নার হাতে হাত রেখেছেন তিনি। এক কথায় এমন কোনো নায়ক নেই, যে কিনা মাধুরীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করেননি।

মাধুরী তার বর্ণিল ক্যারিয়ারে পদ্মবিভূষণ ও ফিল্মফেয়ার ছাড়াও ফোর্বসের জরিপে সেরা পাঁচ প্রভাবশালী ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকাদের একজন। শতবর্ষের ইতিহাসে তিনি পেয়েছেন সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকার খেতাব। এদিকে, ২০১৯ সালে ‘কলঙ্ক’ নিয়ে আবারো দেখা মিলবে মাধুরীর। সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকুন, আশা করছি, আবারো নতুন চমক দেখাবেন এ নায়িকা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.