ইরানে হিজাব খুলে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ২৯ নারী

0 52

ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের নিয়ম লঙ্ঘন করায় অন্তত ২৯ নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো শুরু করেছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এ তথ্য জানায়। তেহরান পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, এ পর্যন্ত ২৯ নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করার কারণ ‘জননিরাপত্তা লঙ্ঘন’ বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তেহরান বাদে দেশটির অন্য কোনো অঞ্চলে একই কারণে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য তেহরান ছাড়াও ইস্পাহান, শিরাজের মতো শহরগুলোতে হিজাব নিয়ে নারীদের বিক্ষোভ চলছে।

১৯৭৯ সাল থেকে বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের আইন রয়েছে ইরানে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আয়াতুল্লাহ খোমেনির শাসনকাল শুরুর সময় থেকেই এই আইন বহাল আছে।

ইরানের আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে হিজাব পরিধান না করলে নারীদের জেল অথবা জরিমানা হতে পারে।

বছরের পর বছর এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ইরানি নারীরা। বিগত কয়েক সপ্তাহে নতুন করে এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নারীরা আইনটির প্রতিবাদে জনসমক্ষে তাদের হিজাব খুলে লাঠির আগায় বেঁধে পতাকার মতো উড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ইরানি-মার্কিন বংশোদ্ভূত বিশ্লেষক হলি ডাগ্রেসের মতে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘ভালোভাবেই জানে’ যে অন্তত অর্ধেক ইরানি নাগরিক হিজাবের বিপক্ষে। এ কারণেই ইরানের ‘মোরালিটি পুলিশ’ তেহরানের মতো বড় শহরগুলোতে সর্বক্ষণ টহল দিচ্ছে। কারণ শুরুতেই দমন করতে না পারলে আরও বড় আকারে বিক্ষোভ শুরু হবে।

ডাগ্রেদের মতে, গ্রেফতার বাড়লে বিক্ষোভকারীদের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়বে।

তবে ইরানের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ জাফর মোন্তাজেরি এই বিক্ষোভকে ‘শিশুতোষ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইরানের বাইরে থেকে এ বিক্ষোভকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.