এন্ড্রু কিশোরের জন্য নিউইয়র্কে কনসার্ট

0 53
কারে দেখাবো মনের দু:খ গো, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার বুকের মধ্যেখানে, ভেঙেছে পিন্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালবাসা চায়, ভালবেসে গেলাম শুধু, আমার সারা দেহ ..এমন হাজারো গান দিয়ে যিনি আমার সর্বদা বিমোহিত করে রাখতেন, সুখের সময় যার গান আমাদের সুখের মাত্রা বাড়িয়ে দিত, দুখের সময় যার গান ছিল আমাদের একমাত্র সাথী সেই গায়কের পাশে আজ আমাদের প্রয়োজন। শুধু সমবেদনা নয় এখন সময় প্রতিদান দেওয়ার। আপনাদের সকলের সহযোগীতা পেলে আপনাদের সকলের প্রিয় এন্ড্রু কিশোর সুস্থ্য হয়ে আবার আসবেন নিউ ইয়র্কের মাটিতে আপনাদের গান শোনানোর জন্য। কথা দিচ্ছি, আপনাদের সহযোগীতা পেলে দাদা আবার আসবেন নিউ ইয়র্কে। আসুন সবাই ২০ ডিসেম্বরের কনসার্টে সামীল হই এবং এন্ড্রু কিশোরের প্রতি আমাদের ভালোবাসার প্রমান দেই।
আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনকারী এন্ড্রু কিশোর দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার চিকিৎসা চালাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থের প্রয়োজন।

ক্যান্সারে আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোরের জন্য নিউইয়র্কে কনসার্ট ২০শে ডিসেম্বর, উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কনসার্টে অংশ নেবেন দেশের তারকা শিল্পীরাও। এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক শো টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম।

এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা হচ্ছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। এখন তিনি বাসায় আছেন। অথচ আজ শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, তিনি মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরে তাঁর এবং পাশে থাকা স্ত্রীর মুঠোফোনে কল করে অনেকেই জানতে চান, এন্ড্রু কিশোর কি মারা গেছেন? এমন ঘটনায় হতাশ দেশের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই শিল্পী আর তাঁর পরিবার। সিঙ্গাপুর থেকে এন্ড্রু কিশোর  সবাইকে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘প্লিজ, ফোনে বিরক্ত করবেন না।’ জানালেন, তাঁর শরীরটা আজ ভালো নেই। ক্যানসারের পাশাপাশি কেমোথেরাপির যন্ত্রণা তো আছেই। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

আজ দুপুরে শিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর তাঁর স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রুর সঙ্গে কথা হয়েছে। লিপিকা এন্ড্রু জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা চলছে। তাঁরা হাসপাতালের কাছেই একটি বাসায় আছেন। এরই মধ্যে এন্ড্রু কিশোরকে কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু হয়েছে। কেমোর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কখনো ডে কেয়ার সেন্টারে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।

আগেই জানা গেছে, এ পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে সেখানে থাকতে হবে। ২৬ নভেম্বর থেকে কেমোথেরাপির পরবর্তী সাইকেল শুরু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৩টি সাইকেলে আরও ১২টি কেমোথেরাপি দেওয়া হবে। তাঁর এই চিকিৎসা সম্পন্ন করার জন্য আরও ২ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, এন্ড্রু কিশোর ১৯৫৫ সালের (৪ নভেম্বর) জন্মগ্রগন করেন। তিনি বাংলাদেশর বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। যেজন্য তিনি ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.