ছবির গল্প

132
এই ছবি দুটি অনেক বছর ধরে যত্ন করে রেখে দিয়েছি ।আমার গ্যালারি তে আমার পারিবারের সদস্য দের ছবির সঙ্গে এই ছবিটি ও যত্ন করে রাখা আছে ।এই ছবিটি আমার অনেক পছন্দের একটা ছবি। ছবিটার দিকে তাকিয়ে আমি পুরো বাংলাদেশ সহ পুরো বাঙালী জাতিসত্তাকে যেন দেখতে পাই।
মাঝের জন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তাঁরই দুই পাশে দুইজন নারী । একজন মেয়ে অন্যজন স্ত্রী ।দুজনের চোখে মুখে প্রশান্তির হাসি। ছবি কথা বলে কন্যা ও স্ত্রীর কাছ থেকে কোন অভাব অভিযোগ শেখ মুজিবু কে কখনো সয্য করতে হয় নি।এ যেন এক মহাসাগর সমান শান্তি।
এতদিনে সবার জানা শেখ মুজিব সংসার জীবন উপভোগ করতে পারেন নি।জেলেই কেটেছে তাঁর জীবন যৌবন।পরিবার কে সময় দেয়ার মত সময় তাঁর হাতে ছিল না।জেলের বাইরে যে কটা দিন থেকেছেন মিছিল মিটিং সভা সেমিনারে নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। নিজেকে দেশের মানুষের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে আমাদের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন। এই মহান ব্যক্তি আর কেউ নন তিনি আমাদের মুজিব । তাঁকে খুঁজে পেতে গুগলে সার্চ দিতে হয় না । তিনি অতি কাছের অতি আপন অতি সাধারণ একজন আপন মানুষ । তিনি আমাদের মুজিবর । পৃথিবীর বুকে গর্ভ করবার মত পরিচয় দিয়ে গেছেন ।অতি সাধারণ ছিলেন বলেই তিনি সাত কোটি মানুষের মনের মনি কোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন ।তিনি নিজে মহান হয়েছেন আমাদের কে এ মহান করে গেছেন।
একজন সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা অতি সাধারণ একজন মানুষ কি করে দিনে দিনে আকাশ সমান উচ্চতায় পৌঁছেছেন ? এত ঝড় ঝাপটা সামলিয়ে ও কেমন করে তিনি দিশেহারা হন নি? দিনে কোন শক্তি বলে তিনি সাত কোটি মানুষের মনের মনি কোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন ? দেশের মধ্য বয়সে এসে এসব প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক । আমার কাছে এসবের উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ । উত্তরে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন দেশের মানুষের ভালোবাসা ও দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ।
আমি ছবি টা ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। আমি দেখতে পাচ্ছি দুই পাশের দুই জনের তাঁর প্রতি নির্মল ভালোবাসা। পাশের দুজনের কোন কালে কোন অভিযোগই ছিল না।
তিনি তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী তে বার বার লিথেছেন স্ত্রী রেনুর গল্প।
তিনি বইয়ে লিখেছেন, অনেক টাকার প্রয়োজন হলে আমি আমার বোনের কাছ থেকে আনতাম। আব্বা তাকে বলে দিয়েছিলেন আমার দরকার হলে টাকা দিতে।মায়ের কাছ থেকেও আমি টাকা নিতাম।আর সময় সময় রেনুও আমাকে টাকা দিত।রেনুর যা কিছু জোগাড় করত বাড়ি গেলে এবং দরকার হলে আমাকেই দিত। কোনদিন আপত্তি করে নাই,নিজে মোটেও খরচ করত না। গ্রামের বাড়িতে থাকত, আমার জন্যই জমিয়ে রাখত।
এই হলেন রেনু যিনি টাকা জমাতেন তার রাজনিতি করা স্বামীর জন্য ।
বাংলার স্বাধীনতা তথা স্বাধীনতা পূর্ব ইতিহাসে যে নারীর ত্যাগ ও সংগ্রাম জড়িয়ে আছে তিনি বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা। ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্য।
১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তাঁর ডাকনাম রেণু। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে ও পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। বড় হন দাদা শেখ কাশেম এর কাছে। বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রথমে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ও পরবর্তীতে সামাজিক কারণে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশুনা করেন। দাদার চাচাতো ভাই শেখ লুৎফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রেণুর বিবাহ হয়।
তার স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। যেকোনো পরিস্থিতি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মোকাবেলা করতে পারতেন তিনি। দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নিজেকে জড়িত রেখেছেন বেগম মুজিব। স্বামীর রাজনীতিতে সবরকম সহায়তা করতেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত শেখ মুজিব এর যখনই অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতো তখনই নিজের পিতৃ সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ বিনা দ্বিধায় পাঠাতেন বেগম শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তেও সংসার ও রাজনীতির কর্মময় জীবনের বর্ণনায় বার বার স্ত্রী বেগম মুজিবের নাম উচ্চারণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কারারুদ্ধ দিনগুলোতে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রয় করতে হয়েছে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। তিনি স্বামীর জন্য অনেক অলংকার বিক্রয় করেছেন ।শেখ মুজিবের জেল জুলুমের আভাষ রেনু তার পরিবারের উপর পরতে দেন নি। পরম মমতায় সামলে নিয়েছেন মেয়েদের ।
তার সদয় আচরণ ও বিনয়ে মুগ্ধ ছিল সবাই। সন্তানদের যেমনি ভালবেসেছেন তেমনি শাসন করেছেন। পিতা মাতা উভয়েরই কর্তব্য তিনি শেষ দিন পর্যন্ত পালন করে গেছেন। বেগম মুজিব ছিলেন কোমলে কঠোরে মিশ্রিত এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাহসী নারী। স্বামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সন্তানদের গড়ে তোলেন। তার কাছে সহযোগিতা চেয়ে কেউ কখনও রিক্ত হস্তে ফিরে যায়নি। কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেয়া থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজনদের যে কোন সংকটে পাশে দাঁড়াতেন তিনি।নিচের ছবিতে দেখুন স্বামীর সব কিছুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন তিনি ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.


Notice: Undefined index: name in /var/www/wp-content/plugins/propellerads-official/includes/class-propeller-ads-anti-adblock.php on line 169