কোভিড ১৯ জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে আশংকা ট্রাম্প

0 18
সীমান্ত বন্ধ সিদ্ধান্ত করার নিচ্ছে আমেরিকা সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন করোনা-সংক্রমণ রুখতে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন সোমবার জানিয়েছেন, খুব প্রয়োজন না-থাকলে কাউকে ইইউ-এর একটি দেশ থেকে আর এক দেশে যেতে দেওয়া যাবে না। আগামী ৩০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে বেশ কয়েক জন চিকিৎসক, হোয়াইট হাউসের কয়েক জন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এখনই দেশ জুড়ে কোয়রান্টিন চালু করার কথা ভাবছেন না। তবে দেশের কিছু কিছু এলাকায় নিষেধাজ্ঞা চালু করবেন স্থানীয় গভর্নরেরা। তাঁদের সঙ্গে আজই ভিডিও কনফারেন্স করেছেন ট্রাম্প। করোনা-মোকাবিলায় আমেরিকাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত এ রকমই চলবে!’’

ইটালিতে রোজই বাড়ছে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালে রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীদের মধ্যে কাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হবে এবং কাদের আপাতত ফেলে রাখা হবে, সে ব্যাপারে ‘কঠোর’ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তাঁদের। ইটালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জন করোনা-আক্রান্তের। নতুন আক্রান্ত ৩৫৯০ জন। সে দেশে মোট করোনা-সংক্রমণ ২৫ হাজার ছুঁয়েছে। মৃত ২১৫৮। এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুসংবাদ দিতে এ দিন খবরের কাগজে ১০ পাতার ‘শোকসংবাদ’ ছাপা হয়েছে।

দু’সপ্তাহ আগেও ইটালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫০০। তখনও পর্যন্ত আক্রান্তের মধ্যে মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জীবনদায়ী ব্যবস্থায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল। এখন ইটালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। তাই আলাদা করে প্রতিটি রোগীর যত্ন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এখন ডাক্তার এবং নার্সদের বলা হচ্ছে, রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বুঝে তবেই চিকিৎসা করুন। বেছে নেওয়ার এই কঠিন প্রক্রিয়ায় দ্বন্দ্বের মুখে পড়েছেন চিকিৎসকেরা। যথেষ্ট ভেন্টিলেটরও নেই। অন্য দেশ থেকে তা আসবে বলে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকেরা।

এই ব্যাপারে লমবার্ডির বার্গামো শহরের একটি হাসপাতালের আইসিইউয়ের চিকিৎসক ড্যানিয়েল ম্যাশিনির একটি টুইট ভাইরাল হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণে বাড়ছে। রোগীদের পরীক্ষার ফলাফল সবই পজ়িটিভ, পজ়িটিভ, পজ়িটিভ। হঠাৎ জরুরি বিভাগটা যেন ভিড়ে ভেঙে পড়ছে।’’ বার্গামোর আর এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘৮৫-৯০ বছরের কোনও ব্যক্তি যদি ভীষণ শ্বাসকষ্টে ভোগেন, তবে চিকিৎসার জন্য আর এগিয়ে যাওয়া যাবে না। এগুলো ভয়াবহ কথা। তবে আফসোসের বিষয় যে সবটাই সত্যি।’’

ক্রমশ মৃত্যু বাড়ায় আতঙ্ক বাড়ছে ফ্রান্সেও। এখানে শুধু রবিবারই ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ রোগীর। প্রতি তিন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। এখানে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলিভিয়ে ভেরঁ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪০০। ৪০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংক্রমিত সন্দেহে ৪ হাজার জনকে কোয়রান্টিন করে রাখা হয়েছে। এখানকার চিকিৎসকেরাও বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, হাসপাতালে রোগীদের স্থান সঙ্কুলান নিয়ে সঙ্কট শুরু হবে। সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে যা করার, সেটাই করছে ফ্রান্স। দেশকে শীঘ্রই তালাবন্দি করা হবে, এই আতঙ্কে জিনিসপত্র কিনছেন মানুষ।
তবে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও ব্রিটেনে এখনও বন্ধ হয়নি সব স্কুল, পাব, বার এবং রেস্তরাঁ। যদিও বরিস জনসনের সরকার বলছে, তারা বিজ্ঞান-উপদেষ্টাদের পরামর্শমতোই চলছে। যদিও সুপারমার্কেটে শূন্য তাক বুঝিয়ে দিয়েছে এখানেও মানুষ আতঙ্কে কেনাকাটা করে রাখছেন আগে থেকেই। সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এ বার থেকে প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠকে করোনাভাইরাস নিয়ে আপডেট দেবেন তিনি। এ দেশে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৫১। কানাডার সব প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। সফরের জন্য এখানে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। প্রধান স্বাস্থ্য আধিকারিক টেরেসা ট্যাম বলেছেন, ‘‘সংক্রমণ রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং কানেক্টিকাটেও এ বার বন্ধ হয়ে গিয়েছে সব বার, রেস্তরাঁ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে আক্রান্ত ৭৪ জন। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৮২৩৬। এখানকার উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিম গ্যাং-লিপ বলেছেন, ‘‘সেরে উঠছেন যাঁরা, সংখ্যায় এখন তাঁরাই বেশি। আমরা যে শিক্ষা নিয়েছি, তা যেন না ভুলে যাই।’’ নতুন করে সংক্রমণ হয়েছে সোলের দক্ষিণে সেওংনাম শহর থেকে। এখানে একটি গির্জায় প্রার্থনায় যোগ দিয়ে ৪০ জন সদস্য করোনা পজ়িটিভ। সরকার জমায়েত নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও ১ ও ৮ মার্চ তাঁরা প্রার্থনায় যোগ দেন।
ইরানে মারা গিয়েছেন আরও ১২৯ জন। মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৮৫৩।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.