আতংক আছে তবে কোয়ারেন্টাইনে সম্ভাবনা নেই

0 13
সকাল দশটায় বের হয়েছি । চমৎকার আকাশ। ঝকঝকে রোদ ।হাল্কা ঠাণ্ডা। উদ্দেশ্যে জ্যমাইকার হিলসাাইড এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সাথে করোনা ভাইরাস এবং এই নিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে কথা বলবার জন্য।
হিল থেকে নামতেই দেখা মিলে দেশি বিদেশি গ্রোসারী ,রেস্তোরাঁ ,মোবাইল ফোন দোকান, কাপড় চোপড় এর দোকান,বিউটি পার্লার,ব্যয়ামাগার , ট্রেন স্টেশন , বাস স্টপেজ, এবং নানা ধরনের ডাক্তার চেম্বার । কি নেই এখানে। এই এলাকায় সব সময় লোকে গিজ গিজ করে। ছুটির দিন হলে তো কথাই নেই । মানুষের ভীড়ে ফুটপাতে ও হাঁটা যায় না ।

এরই মধ্যে মানুষ জেনে গিয়েছে আগে রাতে নিউইয়র্ক শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর খবর।করোনাভাইরাসে নিউইয়র্কে এটিই প্রথম মৃত্যু। তিনি হাপানি রোগে ভুগছিলেন বলে খবরে নিশ্চিত করেছে ।

তাছাড়াও বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা দেন। আজকে তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

তবে একেবারেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে কিছু মানুষের দেখা মিলেছে। কথা বলতে চাইলে কেউ কেউ স্যরি বলে অপারগতা প্রকাশ করেন। মনে হলো টুকটাক তৈজসপত্র কিনে খুব তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে হবে । কথা বলছিলাম প্রিমিয়ার গ্রোসারী তে যাদের তাড়া বেশি তাদের কয়েক জন কে জিজ্ঞেস করলাম জিনিস পত্রের দাম কি একটু বেশি মনে করছেন ? মোটামুটিভাবে সবাই বললেন তারা সব পন্যের পঁচিশ সেন্ট থেকে এক ডলার পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এক ভারতীয় দম্পতির অভিযোগ শুধু বাঙালি এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই দামের কারসাজি করেছে। আমেরিকান দোকানে পন্যের দাম বাড়েনি তবে তাদের মওজুদ শেষ হয়ে গিয়েছে।
কেউ কেউ অভিযোগে করলেন চাল ও পানির দাম কিছু কমিয়ে তারা অন্য পন্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
কথা বলেছি সাত বছরের আবরার ও তার মায়ের সাথে । মায়ের আক্ষেপ স্কুল বন্ধ না রাখা নিয়ে । তিনি আরো জানান তারা কয়েক পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোমবার থেকে বাচ্চা দের স্কুলে দিবেন না।
কথা বলেছি পথচারী কিছু মানুষের সাথে করোনার জন্য আমাদের আল্লাহর রহমতে উপর ভরসা করা লাগবে। কোয়ারেন্টাইনে ব্যপারে কি করছেন জানতে চাইলে বলেন । বেশি অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি হবেন না হয় বাসায় থাকবেন ।কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পারবেন না । জামশেদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন মা বাবা ভাই বোনদের নিয়ে দুই রুমের ঘরে কোন মতে দিন পার করেন সেখানে কেমন করে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন । তরুন জামশেদ একটু আক্ষেপ করেই উচু স্বরে বললেন ভাই এসব কোয়ারেন্টাইন আমরা বাঙালী দের জন্য না । তার সাথে আরো কয়েকজন যোগ দিয়েছেন তারা ও একই সুরে জানান ,এসব আমেরিকানদের জন্য তারা এমনিতেই একা একা থাকে । আমরা এখন রুমে সাত থেকে আটজন মানুষ গাদাগাদি করে থাকতে হয় ।তাই কোয়ারেন্টাইনে তারা থাকতে পারবেন না। কেউ কেউ বলেছেন তারা গ্রুপ করে এক বাসায় থাকেন । এখন দল সকালে কাজে যায় তো অন্য রাতে কাজ করে বাসায় ফিরে। তাদের পক্ষে কোন মতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা সম্ভব না।
কেউ কেউ কে দেখলাম মাস্ক পরেছেন ঠিক কিন্তু মাস্ক সরিয়ে ওয়াক করে খোলা রাস্তায় থুথু ফেলছেন ।আবার কেউ কে দেখলাম মাস্ক পরে আছেন তবে একই সিগারেট কয়েক জনে শেয়ার করে ফুঁক দিতে । হাসি চাপিয়ে জানতে চাইলাম ভাই মুখে মাস্ক দিয়ো তো লাভ হবে না যদি সিগারেট ভাগ করে খান । বললেন তাদের কারো করোনা ভাইরাস নেই।
আলহামরা নামকরা কাপড়ের দোকান কোন ক্রেতা নেই। বললেন গত এক সপ্তাহে কোন বেচা বিক্রি হয় নি। পানসি ,সাগর , ঘরোয়া তাদের কর্মচারী ছাড়া কোন ক্রেতা চোখে পড়ে নি।
বিকালে গেলাম জ্যকসন হাইট খাবার বাড়ি কখনোই বসার জায়গা পাওয়া যায় না। দুজন কে দেখলাম চা খেতে । কর্মচারী জানান কাস্টমার নেই তাই তাদের ও কাজ কমে গেছে, তয়েকজন কে বাসায় চলে যেতে বলা হয়েছে। কর্ম ঘন্টা কমিয়ে দেয়া হয়েছে।পরিবার নিয়ে কেমন কর চলবেন সেই দুশ্চিন্তা অনেকের চোখে মুখে দেখা গেল । পুরো জ্যকসন হাইট আমার কাছে ফাঁকাই মনে হল। লং আইল্যান্ড ঔষধ কোম্পানীর বেশ কটি ইতিমধ্যেই কাঁচামাল আমদানি করতে না পারলে কিছু মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করবে বলে কর্মচারী দের জানিয়েছে ।এরই ফাঁকে গেলাম কসকো সুপার শপে । মানুষের লাইন পার্কিং লট পর্যন্ত পোঁছেছে। ভিতরে ডিম কিনতে যেয়ে মোটামুটি সব তাক ফাঁকা দেখতে পেলাম।

গত ১২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৫ শতাধিক মানুষের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া দেশটিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবিলায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) ভাইরাসেরই মতো, মার্সের ভাইরাসের (মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) সঙ্গেও এদের বিস্তর মিল রয়েছে। সংক্রমিত হওয়ার পরে অন্তত ৩৭ দিন এরা বেঁচে থাকে রোগীর শ্বাসযন্ত্রে। সেখান থেকে খাদ্যনালী দিয়ে বাহিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্তে। ধীরে ধীরে এদের আক্রমণের শিকার হয় শরীরে কোষ-কলা। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠা এমনই তথ্য।

সিঙ্গল স্ট্র্যান্ডেড এই আরএনএ ভাইরাস যে আর পাঁচটা ফ্লু ভাইরাসের মতো নয়, সেটা এখন বিজ্ঞানীদের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের চরিত্র বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.