নারী

0 11

নারী র কোন বিষয়ে লিখবো ?নারী অধিকার ,নারীর সম্মান ,নারী শিক্ষা , নাকি নারীরআধুনিকায়ন?গ্লোবালাইশনের যুগে নারীর বাঁধা বিপত্তি নিয়ে মাথা গোলমেলে ঠেকছে।সব কিছুকে ছাপিয়ে মাথা শুধু নারী নির্যাতনের দিকে চলে যাচ্ছে। যেখানে ছয় মাসের শিশু থেকে একশবছরের বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না ।এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা ।ধর্ষণ এক মহামারী রোগেরনাম। যার কোন ঔষধ আবিষ্কার হয় নাই। ধর্ষণকারীর পরিচয় নিজের বাবা থেকে শুরু করেসবাই। ধর্ষকের যেমন আলাদা পরিচয় হয় না তেমনি ধর্ষণের জন্য কোন বয়সের বাধ বিচারথাকে না।

ভারতে নারীদের যৌন হয়রানি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে গড়ে৩৩ জন প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হচ্চে। পাশের দেশের গড়ে ৪৫/৬০ জন তার মধ্যে কন্যা শিশুকিশোর ছেলে ও রয়েছে । বরাবরই শুনা যায় ,যৌন হয়রানির মত ঘটনার হাত থেকে রক্ষাপাওয়ার জন্য মেয়েদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মেয়েদের খোলামেলা পোশাকেরকারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন। আজকাল মেয়েরা শুধুপশ্চিমাদের মননে অনুসরণই করেন না, তাদের মতো পোশাকও পড়েন তাই চারিদিকে শুধুধর্ষণের মহামারী আকার ধারণ করেছে। মোদ্দাকথা হলো নারী এখনো একদলা মাংসপিণ্ডছাড়া আর কিছুই না।

এই নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ স্বরূপ সম্প্রতি দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উচ্চারিত “মি টু” শব্দ দেশ,কাল,সময়-এর গণ্ডী পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল ।যে শব্দেরআঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন পুরো পুরুষ সমাজ ।এই মি টু দিয়ে জীবনের অনেক গোপন সত্যউদ্ঘাটনে আমাদের সাহসী করে তোলে।

আমার মনে হয় ‘মি টু’ নিঃসন্দেহে আসলে সেই ১৯৯৭ সালে সমাজকর্মী টারানা বার্ক যখন ১৩বছরের এক কিশোরীর মুখে তার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছিলেন, তখনইতাঁর বুকের ভিতর জন্ম নিয়েছিল ওই ‘মি টু’।

পরে যৌন হিংসার বিরুদ্ধে তাঁর প্রচার আন্দোলনের নামও বার্ক রাখেন ‘মি টু’, অর্থাৎ ‘আমিও’ যৌন হেনস্তার শিকার । প্রতিবাদে হচ্ছে প্রতিবাদ হবে । বিচার ও হবে । কিন্তু এর থেকে মুক্তিরউপায় কি?

বলা হয়ে থাকে নারী স্বাধীনতা এসব কিছু থেকে মুক্তি দিতে পারে । স্বাধীনতার কথায় আসলেবলতে হয় ইউরোপের শিল্প বিপ্লব সমাজ সংস্থায় পূর্ণ মাত্রার পরিবর্তন এনেছিল। শিল্প বিপ্লবসমাজকে নবতর ভিত্তিতে গড়ে তুলতে শুরু সহায়তা করেছে ।শিল্প বিপ্লবোত্তর কালে নারী যখনসম্পূর্ণ মুক্ত অবস্থায় শ্রম করতে শুরু করেছিল, তখন নারী সমাজের মনে বিরাট বিপ্লব সূচিতহল এবং তাদের জীবন যাত্রায় আমূল পরিবর্তন সূচিত হলো। নারী অর্থ উপার্জন করতেশিখল ।স্বোপার্জিত অর্থ সম্পদের তারা হল মালিক। সমাজ সমষ্টির সাথে তাদের কার্যক্রমেরসম্পর্ক স্থাপিত হল। নারীরা এখন আর কোন ক্ষেত্রেই নিজদেরকে অস্তিত্বহীন এবং দুর্বল মনেকরে না। তাদের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য পুরোপুরি ভাবে বিকশিত ও অনস্বীকার্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলেসমাজ জীবনের সকল স্তরে নারীদের বিচরণ তাদেরকে অপরাধ জগতের সাথে সম্পৃক্ত হতেবাধ্য করেছে। বর্তমান সময়ে নারী অপরাধ সংঘটনের নেত্রী পাপিয়া অপরাধ নারী দিবসে নারীসমাজের নতুন করে ভাবনায় খোরাক জুগিয়েছে।

আজকে মাথায় বার বার একটা প্রশ্ন আসছে , পুরুষ দের কাছে জানতে ইচ্ছে করছে ,কয়জনপুরুষ আছেন যারা জি পয়েনট চেনেন। নিশ্চয়ই মাথায় হাত পড়েছে এটা আবার কি জিনিষ? যারা জানেন তারা হয়তো বলবেন এটা আবার লেখার বিষয় নাকি!? সেদিনের এক ইউটিউবভিডিও দেখলাম যেখানে ছেলেদের সেক্স পাওয়ার বাড়ানো এডভার্টাইজিং এর জন্যম্যানহাটনের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ছেলেদের প্রশ্ন করছে জি পয়েনট কি ? একটা পুরুষ ও পাওয়া গেলনা যে সে এ বিষয়ে জানে বা শুনেছে ।কেউ কেউ বলেছেন জানেন তবে তিনি তার স্ত্রী বাগার্লফ্রেন্ড এর মাঝে খুঁজে পান নি। না জানা বিষয় টা যদিও হাস্যকর তবে এই যে যিনি জানেনতবে খুঁজে পান নি তার বিষয় টা আরো জটিল করে দেখানো হয়েছে। কোন পুরুষ কে সেক্সকিভাবে করতে হয় শেখাতে হয় না। পুরুষের কথা না জগতের সকল প্রাণীকুল এ বিষয়ে জানেন।তবে মানুষ হিসেবে মেয়েদের ও পুরুষের মত সেক্স করে সুখী হবার অধিকার আছে তা কয়জনপুরুষ আছেন যারা তার সঙ্গী কে সেই সর্ব সুখ টা দেন । আছেন যারা তাদের সংখ্যা খুবই কম।পুরুষেরা এই জি পয়েনট চেনে না বলেই আধুনিক বিজ্ঞান মেয়েদের জন্য সেকস করারইন্সট্রুমেন্ট তৈরি করে। মেয়েদের শরীরে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে স্পর্শ করলে মেয়েরাঅনেক বেশি ‘টার্ন অন’ হয়ে পড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই ছেলেরা সেইসব অংশের দিকেনজর দেয় না। ফোরপ্লে সীমাবদ্ধ থাকে ব্রেস্ট, নিপলস আর কিসের মধ্যেই। তারপরেইইন্টারকোর্স। আমি যদি নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলি তাহলে কেন বিছানাথেকে নয়।

নারী অধিকার মানবাধিকার থেকে ভিন্ন কিছু নয়। মানবাধিকারের সব বিষয়গুলোই নারীঅধিকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অধিকন্তু নারীদের জন্য আছে আরো কিছু অধিকার যাএকান্তভাবে নারীকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাঁচতে শেখায়। পরিবারে একজননারীকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পারিবারিক অঙ্গনে নারীকে সকলসময়ই অনেক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। বিশেষত: তিনি যদি বধূ হয়ে থাকেন তবে তারমানসিক চাপের মাত্রাটা অনেক বেশি। পরিবারে পান থেকে চুন খসলেই তাকে নানান গঞ্জনাসহ্য করতে হয়। তবে কন্যা, বোন এমনকি বর্তমান সমাজে মাকেও প্রচুর মানসিক নির্যাতনেরশিকার হতে হয়।

মানসিক নির্যাতন ছাড়া ও বহু নারীকেই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। স্বামীর হাতে তোবটেই এমনকি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের হাতে নারীকে অত্যাচারিত হতে হয়। নির্যাতন সইতেনা পেরে অনেক নারীকে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়তে হয়।

পারিবারিক পরিবেশে নারীকে চরম লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হতে হয়। পরিবারের সমস্ত ভালজিনিস পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কর্মের স্বাধীনতাপ্রভৃতির অধিকার কেবল পুরুষেরই থাকে। নারী হয়ে থাকে অবহেলিত।

চাকরিক্ষেত্রে যেয়েও নারী বৈষম্যের শিকার হয় চরমভাবে। ভাল পদগুলো থাকে পুরুষদেরদখলে। কর্মক্ষেত্রে নারী মূলত কাজের যন্ত্রের পাশাপাশি পুরুষের দৃষ্টির মনোরঞ্জনের পাত্রেপরিণত হয়, অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হয় ভোগের পণ্যে।

বতর্মানে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, নারীরা অনেকে পেশাজীবীও হচ্ছেন, তবে তাপ্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। অনেক অভিভাবক এখনো কেবল মেয়ের ‘ভালো বিয়ে’ দিতেতাকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা দরকার বলে মনে করেন; এই মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার।কেবল বিয়ের কথা না ভেবে মেয়েকে সমাজে স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে, স্বাবলম্বী হিসেবেপ্রতিষ্ঠা করে তোলার জন্য উচ্চশিক্ষিত করে তোলার কথা অভিভাবকদের গুরুত্বসহকারেভাবতে হবে। তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে যাবে নারী যদি নিজেকে শিক্ষীত করে তুলতে পারে।পড়াশুনা করে সমাজের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে কিক্ষার বিকল্প নেই। উপার্জনক্ষমতাই পারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.